গড়বেতা রয়েছে গড়বেতাতেই! বিজেপি কর্মীকে বেধড়ক মার, জল চাইলে মুখে প্রস্রাব ঢেলে দেওয়ার অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে

পঞ্চায়েত ভোট মিটলেও এখনও পর্যন্ত মিটছে না ভোটের হিংসা। পার্টি অফিসে তুলে নিয়ে গিয়ে বিজেপি কর্মীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠল তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ওই বিজেপি কর্মী জল চাইলে তাঁর মুখে প্রস্রাব ঢেলে দেওয়ার অভিযোগ। এবারের পঞ্চায়েত ভোটে পোলিং এজেন্ট ছিলেন ওই বিজেপি কর্মী। সেই কারণেই এমন অত্যাচার বলে অভিযোগ বিজেপির। এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ জানানো হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে মেদিনীপুরের গড়বেতায়।

এই ঘটনায় কী বলছে বিজেপি?

এই ঘটনা প্রসঙ্গে বিজেপির রাজ্য সহ সভাপতি তথা পশ্চিম মেদিনীপুরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা সমিত কুমার দাস বলেন, “সন্ত্রাসের নিরিখের সিপিএমকেও ছাপিয়ে গিয়েছে তৃণমূল”।

তাঁর অভিযোগ, “শুক্রবার গড়বেতায় বিজয় মিছিল করে তৃণমূল। সেই মিছিল থেকেই মাহিদা এলাকায় আমাদের পার্টি কর্মীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। এবারের ভোটে তিনি বিজেপির পোলিং এজেন্ট ছিলেন। সেকারণেই পার্টি অফিসে নিয়ে গিয়ে বেধড়ক মারধর করে। জল চাইলে, গ্লাসে প্রস্রাব করে তার মুখে ঢেলে দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ওই কর্মীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। খবর পাওয়ার পর আমরা সেখানে পৌঁছয়”।

তিনি এও অভিযোগ করেছেন যে এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ জানানো হলেও পুলিশ এখনও পর্যন্ত কোনও পদক্ষেপ নেয় নি। অন্যদিকে, পুলিশ আবার বলছে, তারা ঘটনাটি খতিয়ে দেখছে।

অভিযোগ অস্বীকার তৃণমূলের

এই ঘটনা সম্পর্কে আবার তৃণমূলের জেলা সভাপতি সুজয় হাজরার দাবী, “এমন কোনও ঘটনায় ঘটেনি। সবটাই গুজব। হেরে গিয়ে মানুষের কাছে মুখ দেখাতে পারছেন না বিজেপির নেতারা। তাই মিথ্যে কুৎসা করে বদনাম করার চেষ্টা করা হচ্ছে”।

প্রসঙ্গত, বাম জমানায় সন্ত্রাসের উদাহরণ বোঝাতে তৎকালীন বিরোধীরা যে সমস্ত এলাকার নাম বলতেন, তার মধ্যে এই গড়বেতা অন্যতম। ২০০১ সালে গড়বেতার এক গ্রামে ৭ জনকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার অভিযোগে উঠেছিল। সেই ঘটনায় তোলপাড় হয়ে যায় গোটা রাজ্য।

সন্ত্রাসের কারণে এই গড়বেতার নাম বারবার উঠে এসেছে শিরোনামে। বিজেপির মতে, শাসক দল বদলালেও গড়বেতা রয়েছে গড়বেতাতেই। সেখানে চিত্রপটের কোনও বদল ঘটেনি। অতীতে বামেদের মতোই বর্তমানে সেখানে তৃণমূলের শোষণ চলছে। অন্যদিকে, তৃণমূল নেতৃত্বের দাবী, “সবটাই গুজব”।  

RELATED Articles