বর্তমানে চাকরির খোঁজে থাকা যুব সমাজের জন্য নানা ধরনের প্রতারণার ফাঁদ পাতা হচ্ছে। অনলাইনে বা সরাসরি, প্রতারক চক্রের সদস্যরা নানা রকম লোভনীয় প্রতিশ্রুতি দিয়ে বেকার যুবক-যুবতীদের আকর্ষণ করছেন। কেউ কেউ আবার বেসরকারি সংস্থায় চাকরির নাম করে টাকা আদায় করছে। কিন্তু সেই টাকা কোথায় যাচ্ছে, চাকরির প্রতিশ্রুতি কতটা সত্যি—এসব নিয়ে সাধারণ মানুষ সচেতন না হলে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।
সম্প্রতি এ ধরনের ঘটনা যেন বেড়ে চলেছে। চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়া এবং কাজ না দিয়ে গায়েব হয়ে যাওয়ার অভিযোগে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে একাধিক ব্যক্তি ও সংস্থার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে। এই ধরনের প্রতারণার কারণে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো শুধু আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছে না, বরং তাদের স্বপ্নও চূর্ণ হচ্ছে। এই প্রবণতা রুখতে প্রশাসনের ভূমিকা কতটা কার্যকর, সেই প্রশ্নও উঠছে বারবার।
এই প্রতারণার জাল রাজ্যের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে থাকলেও, বিশেষত কলকাতার মতো মেট্রোপলিটন শহরে এর ঘটনা বেশি শোনা যাচ্ছে। কিছু ভুয়ো সংস্থা চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ। এদের বিরুদ্ধে প্রশাসন কতটা কঠোর, সেই আলোচনাও চলছে। প্রতারণার শিকার হওয়া মানুষজনের অভিযোগ নিয়ে প্রতিদিনই নতুন নতুন খবর উঠে আসছে।
কলকাতা পুরসভার ১১০ নম্বর ওয়ার্ডের পাটুলি এলাকার যুব তৃণমূল সভাপতি সঞ্জয় কুমার রানার বিরুদ্ধে এমনই একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে পাটুলি থানায়। অভিযোগ, একটি ভুয়ো সংস্থা খুলে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে সঞ্জয় বহু মানুষের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রতিশ্রুতির পর মাসের পর মাস কেটে গেলেও কেউ চাকরি পাননি। সঞ্জয়ের বিরুদ্ধে এর আগেও সোনারপুরে যুব সভাপতির পদে থাকার সময় একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল।
আরও পড়ুনঃ রাজনীতিতে নতুন উত্তেজনা! বিজেপির চিঠিতে ‘শিশমহল’ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে বিশেষ নির্দেশ!
তৃণমূল কংগ্রেসে সঞ্জয়ের মতো অভিযুক্তদের কেন দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিজেপি। দলীয় নেতাদের যোগসাজশের অভিযোগ এনেছেন বিজেপির মুখ্য সচেতক শংকর ঘোষ। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনও মন্তব্য করা হয়নি। সঞ্জয় কুমার রানার প্রতিক্রিয়াও পাওয়া যায়নি। ঘটনার তদন্তে পুলিশ তৎপর হয়েছে বলে সূত্রের খবর। শেষ পর্যন্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে প্রশাসন কী পদক্ষেপ নেয়, তা দেখার অপেক্ষায় সবাই।





