রাজনৈতিক আঙ্গিনায় নতুন বিতর্কের সূচনা হয়েছে, যা শুধুমাত্র দিল্লি নয়, গোটা দেশের রাজনৈতিক প্যালেটেও আলোচনার সৃষ্টি করেছে। মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বিলাসবহুল আবাসন, যাকে বিজেপি ‘শিশমহল’ বলে কটাক্ষ করেছে, সেটি এখন রাজনৈতিক উত্তেজনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। এই বিতর্কের মাধ্যমে প্রমাণিত হচ্ছে যে, ক্ষমতার কেন্দ্রে কীভাবে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, দুর্নীতি এবং ইমেজের লড়াই চলে। এরই মধ্যে বিজেপি এবার নতুন একটি পদক্ষেপ নিয়েছে, যার উদ্দেশ্য এই বিতর্কিত আবাসন নিয়ে আরও তীব্র আলোচনা সৃষ্টি করা।
এই বিতর্কের সূত্রপাত ২০১৫ সাল থেকে, যখন কেজরিওয়াল এই বিলাসবহুল আবাসনটি গ্রহণ করেছিলেন। বিজেপি, বিশেষ করে তাদের প্রধান রাজনৈতিক বিরোধী দল হিসেবে, কেজরির বাসস্থানের বিলাসিতা এবং তার পরিচালনাকে লক্ষ্য করে কঠোর সমালোচনা করেছে। অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে কেজরিওয়াল ঘোষণা করেছিলেন যে তিনি সরকারি বাংলো নেবেন না, কিন্তু পরে তিনি নিজেই এই বিলাসবহুল আবাসন গড়ে তোলেন। সেই সময় থেকেই “শিশমহল” শব্দটি রাজনৈতিক আলাপে উঠে আসে। কিন্তু সম্প্রতি বিজেপি আরও এক পদক্ষেপে এগিয়ে এসেছে, যা নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
বিজেপি দিল্লির উপরাজ্যপাল ভিকে সাক্সেনাকে একটি চিঠি লিখে জানিয়েছে যে, কেজরিওয়াল বা নতুন মুখ্যমন্ত্রী আর এই বিতর্কিত শিশমহলে থাকবেন না। বিজেপির দাবী, এই বাড়িটি যেন সরকারি কাজে ব্যবহার করা হয় এবং সেই অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। বীরেন্দ্র সচদেব, দিল্লি বিজেপির সভাপতি, চিঠিতে লিখেছেন যে কেজরিওয়াল এই বাড়িটি বিলাসবহুল ভাবে সাজিয়ে তুলেছিলেন এবং এটি বেআইনিভাবে পুনর্নির্মাণ করা হয়েছে। তারা দাবি করছে যে, এই বাড়ির জন্য ব্যবহৃত জমির দখলও বেআইনি ছিল এবং সেটি ফিরে পুরনো অবস্থায় ফিরিয়ে আনা উচিত।
এছাড়া, চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ৬ নম্বর ফ্ল্যাগস্টাফ রোডের বাংলো বর্তমানে একটি আবগারি দুর্নীতি মামলার কেন্দ্রে রয়েছে। এই কারণে, নতুন মুখ্যমন্ত্রী এই বাংলোতে থাকতে পারবেন না, এমনটাই দাবি করছে বিজেপি। এটি কেজরিওয়ালের সরকারের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক আঘাত হতে পারে, কারণ এই বাংলো এবং তার সম্পর্কিত বিতর্ক ২০২৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কেজরির পরাজয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছিল। বিজেপি এই নিয়ে একদিকে আক্রমণ করছে, আর অন্যদিকে কেজরির রাজনৈতিক ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করছে।
আরও পড়ুনঃ ব্রিটিশ এমপি-র আপত্তিতে বাংলায় নামফলক! ইলন মাস্কের মন্তব্যে সৃষ্টি হল নতুন বিতর্ক!
চিঠির শেষে, বিজেপির দাবি, সরকারকে নতুন সরকার গঠনের পরে এই বাংলোটি সরকারের কাজে ব্যবহার করতে হবে এবং এর সমস্ত বেআইনি কার্যকলাপের তদন্ত হওয়া উচিত। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বিজেপির এই চিঠি আর তার বক্তব্য শুধু রাজনৈতিক জটিলতারই সৃষ্টি করবে না, বরং ভবিষ্যতে দিল্লির রাজনীতিতে এক নতুন দিক নির্দেশ করবে।





