ফের একবার বিতর্কে জড়ালেন বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ তৃণমূল নেতা অনুব্রত মণ্ডল। নির্বাচনী প্রচারে তিনি ও রাজ্যের মন্ত্রী মলয় ঘটক লালবাতি দেওয়া গাড়ি ঘুরছেন। এই নিয়ে সরব হয়েছে বিরোধী দলগুলি।
আগামী ১২ই এপ্রিল আসানসোল লোকসভা কেন্দ্রে রয়েছে উপনির্বাচন। সেই কেন্দ্র থেকে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন শত্রুঘ্ন সিনহা। নির্বাচনের জন্য পুরোদমে প্রচার চালাচ্ছে সব রাজনৈতিক দলগুলিই। এই কারণেই কয়েকদিন ধরেই নির্বাচনী প্রচারের কারণে আসানসোলে রয়েছেন অনুব্রত মণ্ডল। শত্রুঘ্ন সিনহার হয়ে নানান কর্মসূচিতে যোগ দিচ্ছেন তিনি। সেখানেই তাঁকে দেখা গেল লালবাতি গাড়ি নিয়ে ঘোরাফেরা করতে। এই নিয়ে ওই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পাল জানান যে এই বিষয়টি নিয়ে তিনি নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানাবেন।
অগ্নিমিত্রা পাল দাবী জানিয়ে বলেছেন যে তৃণমূললালবাতি দেখিয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করছে। বিজেপি নেত্রীর কথায়, “কমিশনকে এই বিষয়টায় নজর দিতে বলব। এ ভাবে প্রভাবিত করার চেষ্টা চলছে”। শাসক দলের উদ্দেশে অগ্নিমিত্রা বলেন, “মানুষকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করবেন না। মানুষ যাঁকে ইচ্ছে ভোট দেবেন, কিন্তু প্রভাব খাটাবেন না”। তিনি জানান যে লিখিত অভিযোগ জানিয়ে এই বিষয়টি তিনি কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের নজরে আনবেন।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম বলেন, “প্রশাসনকে নির্লজ্জভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে নির্বাচনী কাজে। প্রশাসন কী ভাবে দলবাজ হয়ে গিয়েছে, সেটাই বোঝা যাচ্ছে। এ ভাবে নির্বাচনী আইনবিধি ভঙ্গ করা হচ্ছে”।
তাঁর আরও দাবী, “তৃণমূলের জয়ের জন্য নিজেদের ওপর কোনও ভরসা নেই। সরকার তন্ত্রের ওপর ভরসা করতে হচ্ছে”। অন্যদিকে আবার অনুব্রত মণ্ডলকে কটাক্ষ করে মহম্মদ সেলিম বলেন, “প্রাণ বাঁচাতে এখন লুকিয়ে থাকার কথা, আর তিনি লাল বাতি নিয়ে ঘুরছেন। মানুষ যদি ক্ষুব্ধ হয়, তাহলে লালবাতি খুলে ফেলে দেবে”।
এই ঘটনায় তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে সাফাই দিয়ে বলা হয়েছে শুধুমাত্র আসানসোলে নির্বাচনী আচরণ বিধি লাগু করা হয়েছে, গোটা রাজ্যে নয়। অনুব্রত মণ্ডল বীরভূম থেকে এসেছেন বলে গাড়িতে লালবাতি রয়েছে বলে দাবী শাসকদলের।
তৃণমূলের নির্বাচনী এজেন্ট তথা পুরচেয়ারম্যান অমরনাথ চট্টোপাধ্যায় জানান যে নিরাপত্তার জন্যই অনুব্রতকে লালবাতি গাড়ি দেওয়া হয়েছে। লালবাতি থাকলেও তা জ্বালানো হয়নি বলে দাবী তাঁর।





