‘বাংলার পুলিশ-প্রশাসন আমাদের, আইএসএফকে যারা মদত দেবে, তাদের চিহ্নিত করা হবে’ বিস্ফোরক মন্তব্য তৃণমূল নেতার

এর আগে বিরোধীরা বারবার অভিযোগ করে এসেছে যে পুলিশ নাকি শাসক শিবিরের হয়েই কাজ করে। এবার তৃণমূল নেতার মন্তব্যে সেই অভিযোগেই যেন সিলমোহর পড়ল। ডায়মন্ডহারবার যাদবপুর সাংগঠনিক জেলার তৃণমূল যুব সভাপতি অভীক মজুমদারের এক মন্তব্যে রাজ্য রাজনীতিতে উঠল ঝড়।

এক ফুটবল খেলার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসে অভীক মজুমদার বলেন, “প্রশাসন আমাদের, বাংলার পুলিশ আমাদের। কাশিপুর থানার আইসি আমাদের, কেএলসি থানার আইসি আমাদের। যারা পেছনে পেছনে আইএসএফকে মদত দেবে, আইএসএফের হয়ে কাজ করবে তাদের খুঁজে খুঁজে বের করা হবে। তাদের চিহ্নিত করা হবে। বাংলায় একজনই নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়”।

তৃণমূল নেতার এমন মন্তব্যের কারণে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে রাজ্য রাজনীতিতে। কোনও দলের নেতা এম্ব মন্তব্য কীভাবে করতে পারেন, সে নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন। এই ঘটনায় আইএসএফ নেতৃত্বের দাবী, তৃণমূল সন্ত্রাস চালাচ্ছে দীর্ঘদিন ধরেই। তাদের মতে, তৃণমূল নেতার মন্তব্যই স্পষ্ট করে দেয় শাসক দল কীভাবে বাংলা শাসন করছে।

বলে রাখি, কিছুদিন আগেই পদ্মপুকুরের এই মাঠেই সভা করতে আসার কথা ছিল আইএসএফের চেয়ারম্যান আব্বাস সিদ্দিকীর। কিন্তু, সেই সভা নিয়ে পুলিশ ও আইএসএফ সমর্থকদের মধ্যে খণ্ডযুদ্ধ বাঁধে। ভাঙড় রীতিমতো রণক্ষেত্র হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে লাঠিচার্জ শুরু করে  পুলিশ। এমনকি কাঁদানে গ্যাসের শেলও ফাটানো হয়। চলে ব্যাপক ধরপাকড়।

করোনার সময় অনুমতি ছাড়া জমায়েত করা যাবে না, এমনটাই স্পষ্ট জানানো হয় প্রশাসনের পক্ষে। যদিও, পাল্টা ভাঙড়ের বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী দাবী করেন, সভার অনুমতি চেয়ে পুলিশকে মেইল চিঠি দেওয়া হয়েছিল। মেইলও পাঠানো হয়েছিল।

যদিও, ভাঙড়ের তৃণমূল নেতা কাইজার আহমেদ দাবী করেন, এই ধরনের কোনও সভার কথা তিনি জানেন না। পাশাপাশি, তাঁর আরও বলেন, “ওই সভা করার জন্য় পুলিশের থেকে কোনও অনুমতি নেয়নি ভাইজানের দল। তাই সভা করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। এর সঙ্গে দলের কোনও সম্পর্ক নেই”।

ভাঙড়ে ধীরে ধীরে রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাচ্ছে। সংযুক্ত মোর্চা কোণঠাসা হচ্ছে ও তৃণমূলে মাথাচাড়া দিচ্ছে ক্রমেই। এমন প্রশ্নও ওঠে যে কর্মী সমর্থকদের মনোবল ফেরাতেই কী আব্বাস সিদ্দিকি ভাঙড়ে সভা করবেন বলে স্থির করলেন?

আসলে দীর্ঘদিন ধরে ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রের আইএসএফ বিধায়ক নওসাদ সিদ্দিকি বিধানসভা এলাকায় ঢোকেন নি। ভাঙড়ের মাঝেরহাটে একটি ঘর ভাড়া নিয়ে থাকলেও, সেখানে তাঁকে পাওয়া যায় না। বিধায়ককে না পেয়েই কী কর্মী-সমর্থকরা দল ছাড়ছেন? এমন প্রশ্নও ওঠে। বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালেই আইএসএফের জন্ম। আইএসইএফ যতই ধর্মনিরপেক্ষটার ধব্জা ওড়াক না কেন, বারবার যে তারা ধর্মকেই প্রশ্রয় দিয়েছে, এমনটাই মত সংশ্লিষ্ট মহলের।

RELATED Articles