গতকাল, ১লা জানুয়ারি ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠা দিবস (TMC foundation day)। এদিন রাজ্যজুড়ে নানান কর্মসূচি পালন করা হয়েছে দলের তরফে। খুশির আমেজ ছিল শাসকদলের মধ্যে। কিন্তু এরই মধ্যে ফের সামনে এল শাসকদলের গোষ্ঠীকোন্দল (inner clash)। দলের বিধায়কের বিরুদ্ধেই বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন দলের প্রাক্তন ব্লক সভাপতি (block president)। ঘটনাটি ঘটেছে পূর্ব বর্ধমানের (Purba Bardhaman) জামালপুরের।
গতকালের এক সভা থেকে প্রাক্তন ব্লক সভাপতি শ্রীমন্ত রায় বিধায়ক অলোক কুমার মাঝিকে উদ্দেশ্য করে বলেন যে তাঁর মতো বিধায়ক রাজ্যে আর কেউ নেই। তিনি বলেন, “যারা বিধায়কের হয়ে ঘেউ-ঘেউ করছে তারা সাবধান। তাদের পিছেনে পেট্রোল ঢেলে কীভাবে তাড়াতে হয় তা জানা আছে”। শ্রীমন্ত রায় বলেন, “এখন যারা ঠিকাদার তারা কেউ স্কুলের সভাপতি কেউ অঞ্চল সভাপতি”।
শুধু বিধায়কই নন, এদিন বর্তমান ব্লক সভাপতি তথা জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির প্রাক্তন সভাপতি মেহমুদ খানের বিরুদ্ধেও সরব শ্রীমন্ত রায়। ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “অনেক দুর্নীতি হয়েছে। ওপেন টেণ্ডার হয়নি। আগামী দিনে এরাও তৃণমূল করবেন। পুরনোরাও করবেন। মানুষ এইসব দুর্নীতি আর অন্যায়ের প্রতিকার চাইবে”।
তাঁর সুরেই সুর মেলান চকদিঘি গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান গৌরসুন্দর মণ্ডল। তাঁর অভিযোগ, “আবাসের তালিকার নিয়ে প্রতিটা পঞ্চায়েতে কী সমস্যা হচ্ছে তা কি বিধায়ক একবারও খোঁজ নিয়েছেন? আমরা সংগঠন করা লোক। একমাসের মধ্যে বিধায়ক লোক নিয়ে আসুন। আমরাও লোক দিচ্ছি। কোনওদিনই পেরে উঠবেন না”।
এই বিষয়ে বিধায়ক অলোক মাঝি বলেন, “আমি কাজ করেছি কী না তার বিচার করবেন এলাকার মানুষ। শ্রীমন্ত রায় নিজের বুথটাই জেতাতে পারেনি। আমার বিরুদ্ধে কোনও দোষের প্রমাণ হলে দল যা শাস্তি দেবে মেনে নেব”।
বলে রাখি, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কিছুদিন আগে জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতিতে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সামনে আসে। অনেক বচসার পর প্রাক্তন জামালপুর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি মেহমুদ খানের অনুগামী ভূতনাথ মালিক ২২ জন সদস্যের সমর্থনে সভাপতি নির্বাচিত হন। এবার তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবসে সামনে এল তৃণমূলের গোষ্ঠীকোন্দল।





