সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন (Panchayet Election)। সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলিই নিজের নিজের মতো করে ঘুঁটি সাজাচ্ছে লড়ার জন্য। এসবের মধ্যেই ফেসবুকে (Facebook post) এক জল্পনামূলক পোস্ট করলেন প্রাক্তন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী তথা কোচবিহার পুরসভার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ ঘোষ (Rabindranath Ghosh)।
ত্রিস্তরীয় পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব যখন ঐক্যের বার্তা দিচ্ছে তখন কোচবিহারের প্রাক্তন জেলা সভাপতির ফেসবুক পোস্ট জল্পনা বাড়িয়েছে। ফেসুবক পোস্টে রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন, “দলের পুরনো কর্মীরা ভালো নেই”। ভোটের আগে রবীন্দ্রনাথের এই ফেসবুক পোস্ট বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
তৃণমূলের শুরুর থেকে উত্তরবঙ্গ তথা কোচবিহার জেলা রাজনীতিতে সক্রিয় রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। ২০১১ সালে নাটাবাড়ি কেন্দ্র থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। ২০১৬ সালে দ্বিতীয়বার ভোট জয়ের পর তাঁর হাতে গুরুত্বপূর্ণ উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রকের দায়িত্ব তুলে দিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
২০১৬ সালের পর থেকে কোচবিহার তীব্র হয় তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। মন্ত্রিত্বের পাশাপাশি জেলা সভাপতির দায়িত্বেও তখন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। তৃণমূল বনাম যুব তৃণমূল দ্বন্দ্বে অনেক রক্তও ঝড়েছে এই জেলায়। তখন থেকেই রবীন্দ্রনাথের অখুশি ছিল দল। ২০২১ সালের নির্বাচনে নাটাবাড়ি কেন্দ্রে থেকে বিজেপির মিহির গোস্বামীর কাছে পরাজিত হন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ।
ভোটে পরাজয়ের পর থেকেই জেলা রাজনীতিতে ক্রমেই প্রতিপত্তি কমতে শুরু করে রবীন্দ্রনাথ ঘোষের। উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহর সঙ্গেও একাধিকবার বিরোধ লেগেছে তাঁর। প্রকাশ্যেই একে অপরকে শানিয়েছেন তারা।
তৃণমূল সূত্রে খবর, ভোটে হেরে যাওয়ার পর থেকে জেলা রাজনীতিতে খানিকটা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন রবীন্দ্রনাথ ঘোষ। আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে তাঁর মতামত কতটা গুরুত্ব পাবে, সেই নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। সেই কারণেই সম্ভবত তাঁর এই ফেসবুক পোস্ট। জেলার তৃণমূল নেতাদের একাংশের দাবী, ভোটের আগে দ্বন্দ্ব ভুলে দল যেখানে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে বলছে, সেখানে দলের প্রবীণ নেতার এহেন ফেসবুক পোস্ট দলের মধ্যে বিভেদ আরও বাড়াবে।





