উত্তর ২৪ পরগনার এক রাজনৈতিক সভা ঘিরে ফের চাঞ্চল্য। প্রকাশ্য সভার মঞ্চ থেকে তৃণমূলের এক জেলা নেতার বক্তৃতা এখন রাজ্যজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে। অভিযোগ, তিনি মঞ্চে উঠে দলীয় কর্মীদের স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন— বাড়ি বাড়ি গিয়ে মহিলাদের ভয় দেখাতে হবে, NRC আর ডিটেনশন ক্যাম্পের নাম ব্যবহার করে আতঙ্ক তৈরি করতে হবে। এমন বক্তব্যে ইতিমধ্যেই তুঙ্গে রাজনৈতিক তাপমাত্রা।
প্রসঙ্গত, বক্তৃতাটি দেন আইএনটিটিইউসি-র উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সভাপতি তাপস দাসগুপ্ত। তাঁর দাবি, বিজেপি নাকি NRC-র মাধ্যমে বেছে বেছে মানুষকে বাদ দিতে চাইছে ভোটার তালিকা থেকে। এজন্য তিনি তৃণমূল কর্মীদের বলেন— বাড়ি বাড়ি গিয়ে প্রচারে নামতে হবে, বিশেষ করে মহিলাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বোঝাতে হবে যে তাঁদের নাম কাটা যেতে পারে, এমনকি ক্যাম্পে পাঠানোও হতে পারে। তাপসের মন্তব্যে উপস্থিত জনতা হাততালি দিলেও, পরে এই ভিডিও ছড়িয়ে পড়তেই শুরু হয় তীব্র সমালোচনা।
ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি মহিলা কর্মীদের উদ্দেশে আরও বলেন, “এলাকার মহিলাদের ভয় দেখান— বিজেপি ভোটার লিস্টের নাম কেটে দিচ্ছে, এরপর ক্যাম্পে পাঠিয়ে দেবে। ভয় পেলে কাজ হবে দ্রুত।” এমন কী BLO-দেরও নিশানা করতে বলেন তাপসবাবু। তাঁর বক্তব্য, “যদি নিরপেক্ষভাবে কাজ না করে, তবে তাদের কাজ করতে দেওয়া হবে না।” এই ভাষণ শোনার পর থেকেই বিরোধীরা দাবি করতে শুরু করেছে, তৃণমূল প্রশাসনিক অধিকারকে রাজনৈতিক অস্ত্রে পরিণত করছে।
বিজেপির তরফে কড়া প্রতিক্রিয়া আসে সজল ঘোষের কাছ থেকে। তিনি বলেন, “একজন নেতা যখন মানুষকে ভয় দেখাতে বলেন, তখন বোঝা যায় রাজনীতির কতটা অধঃপতন হয়েছে। ওরা চায় আতঙ্কের রাজনীতি। মানুষ মারা গেলে ওরা নাচে, বাজনা বাজায়, এটিই এখন বাংলার বাস্তব।” সজলের বক্তব্য ঘিরে সভাস্থলে তীব্র তর্ক শুরু হয়, যা পরে সামাজিক মাধ্যমেও ছড়িয়ে পড়ে।
আরও পড়ুনঃ BJP MLA on SIR & CAA: ভোটার তালিকা থেকে নাম মুছে গেলেও চিন্তা নেই! সিএএ-র আশ্বাসে নতুন বিতর্ক, বিজেপি বিধায়কের মন্তব্যে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!
ঘটনার পর নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তাপস দাসগুপ্ত জানিয়েছেন, তাঁর কথার ভুল ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমি ভয় দেখাতে বলিনি। বলেছি যেন মানুষ নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে পারেন। কেন্দ্র যত মানুষের নাম বাদ দিচ্ছে, তাতে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। সেটা নিয়েই সতর্ক করতে চেয়েছিলাম।” যদিও বিরোধীদের দাবি, এই ব্যাখ্যা বাস্তব পরিস্থিতি ঢাকার চেষ্টা— কারণ মঞ্চে তাঁর ভাষা ও নির্দেশ স্পষ্ট, যা এখন রাজ্যের রাজনৈতিক আবহে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।






