‘নবীন হলেও অভিষেকের অভিজ্ঞতা অনেক বেশি’, অভিষেকের প্রশংসায় পঞ্চমুখ প্রবীণ সুব্রত বক্সির, তৃণমূলে কাটছে নবীন-প্রবীণ দ্বন্দ্ব?

তৃণমূলের অন্দরে নবীন-প্রবীণ দ্বন্দ্ব নিয়ে বিতর্কের অন্ত নেই। সাম্প্রতিককালে এই দ্বন্দ্ব বারবার প্রকট হয়েছে। তবে সামনে লোকসভা নির্বাচন। এই সময় যদি ঐক্যবদ্ধভাবে না লড়া হয়, তাহলে তা দলের জন্যই ক্ষতি। সেই কারণেই কী এবার নবীন-প্রবীণ দ্বন্দ্ব মেটাতে চাইছে তৃণমূল? অন্তত তৃণমূল রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সির সাম্প্রতিক মন্তব্যে তো তেমনটাই মনে হচ্ছে।

কী এমন বললেন সুব্রত বক্সি?

গত শুক্রবার তৃণমূলের একই সাংগঠনিক ভার্চুয়াল বৈঠক ছিল। সেই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সুব্রত বক্সি, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই বৈঠকেই সুব্রত বক্সি বলেছেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মাথায় রেখে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে আমরা এই লড়াইটা জিততে চাই। এই সংবিধান বিরোধী শক্তিকে আমাদের উৎখাত করতে হবে”।

এরপরই বৈঠকে অভিষেকের ভূয়সী প্রশংসা করেন সুব্রত বক্সি। সূত্রের খবর, তিনি বলেছেন, “অভিষেক আমার থেকে অনেক ছোট হলেও অনেক অভিজ্ঞ। আমি অভিষেককে বলব মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মাথায় রেখে একটা নির্বাচন কমিটি ও একটা প্রচার কমিটি যেন তিনি তৈরি করে দেন”।

প্রসঙ্গত, সম্প্রতি নানান মহল থেকে গুঞ্জন উঠছিল যে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেকে নিজের সংসদীয় এলাকা ডায়মন্ড হারবারের মধ্যেই আবদ্ধ করে রাখছেন। মমতার কোনও সভা হোক বা দলীয় কোনও কর্মসূচি, সবেতেই চুপচাপ থাকতে দেখা যাচ্ছে অভিষেককে। দলের নবীন-প্রবীণ দ্বন্দ্বের জেরেই কী এমন করে নিজেকে দূরে সরিয়ে রাখছেন অভিষেক? এমনই প্রশ্ন উঠছে দলের অন্দরে।

এরই মধ্যে আবার গত ১ জানুয়ারি তৃণমূলের প্রতিষ্ঠা দিবসে অভিষেককে নিয়ে সুব্রত বক্সি যে মন্তব্য করেছিলেন, তা নিয়ে দলের মধ্যে নবীন-প্রবীণ দ্বন্দ্ব যেন আরও প্রকট হয়ে ওঠে।

কী বলেছিলেন সেদিন বক্সি?

দলের প্রতিষ্ঠা দিবসের দিন সুব্রত বক্সি বলেছিলেন, ““বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে যে নির্বাচন আসছে, সেই নির্বাচনে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় যদি লড়াই করেন, নিশ্চিতভাবে আমার ধারণা তিনি লড়াইয়ের ময়দান থেকে পিছিয়ে যাবেন না। যদি লড়াই করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সামনে রেখেই লড়াই করবেন”।

তাঁর এহেন মন্তব্যের বিরোধিতা করেছিলেন তৃণমূল রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ। দলের নবীনরাও সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ জারি করছিলেন। এমন আবহে এবার অভিষেকের প্রশংসা শোনা গেল বক্সির গলায়। আসন্ন নির্বাচনে দলকে এক করতেই তাঁর এমন সুর নরম বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

RELATED Articles