সামনেই লোকসভা নির্বাচন। এই মুহূর্তে সমস্ত রাজনৈতিক দলের মধ্যে উত্তেজনা এখন তুঙ্গে। সকলেই নির্বাচনের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। কেউ কাউকে একচুল জমিও ছাড়তে রাজি নয়। এমন আবহে জায়গায় জায়গায় সভা করছে রাজনৈতিক দলগুলি। এবার এক সভা থেকে সন্দেশখালি নিয়ে মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আজ, রবিবার বীরভূমের সিউড়িতে সরকারি পরিষেবা প্রদান অনুষ্ঠানে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই অনুষ্ঠান থেকেই নানান প্রসঙ্গে মুখ খোলেন তিনি। এদিন সন্দেশখালি কাণ্ড নিয়ে বিজেপিকে দুষলেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, সন্দেশখালিতে পরিকল্পনামাফিক অশান্তি ছড়ানো হয়েছে। কোনও মহিলার এখনও পর্যন্ত অভিযোগ করেন নি বলে দাবী মমতা।
ঠিক কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?
এদিন সিউড়ির সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “সন্দেশখালিতে কেউ কেউ তিলকে তাল করছেন। কোনও মহিলা এখনও এফআইআর করেননি। আইন আইনের পথে চলুক। বিচারের আগে অনেকে অনেক কথা বলছে। বাংলায় জট পাকানোর চেষ্টা চলছে। একটা ঘটনা ঘটেছে। ঘটানো হয়েছে। প্রথমে ইডি গিয়ে অশান্তি শুরু করেছে। তার পর তার বন্ধু বিজেপি ঢুকেছে। তার পর সংবাদমাধ্যম। শান্তির পরিবর্তে আগুন জ্বালানো হয়েছে”।
তাঁর কথায়, তিনি গ্রামে অফিসার পাঠাবেন। কেউ যদি কোনও সুবিধা দেওয়ার নামে টাকা নিয়ে থাকে, তাহলে সেই টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মমতার কথায়, “আমি পুলিশকে বলেছি স্বতঃপ্রণোদিত মামলা করতে। আমি পুলিশের টিম পাঠাব। যা অভিযোগ তাঁদের বলবেন। আমাদের ব্লক প্রেসিডেন্টরা অ্যারেস্ট হয়েছে। কোনও অভিযোগ হয়নি। আমি সুয়োমোটো করতে বলেছি। আমি কী পারি না গদ্দারদের অ্যারেস্ট করতে! একটু ছাড় দিয়ে রেখেছি”।
প্রসঙ্গত, বিগত এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে উত্তপ্ত সন্দেশখালি। সেখানকার মহিলারা তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহান ও তাঁর দুই সাগরেদ উত্তম সর্দার ও শিবু হাজরার বিরুদ্ধে শ্লী’ল’তা’হা’নি ও শারীরিক অত্যাচারের অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছেন। এক মহিলা গতকালই ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে গোপন জবানবন্দি দিয়ে উত্তম ও শিবুদের বিরুদ্ধে গ’ণ’ধ’র্ষ’ণ ও খু’নের চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন। এই ঘটনায় আগেই গ্রেফতার করা হয়েছিল উত্তম সর্দারকে। গতকাল, শনিবার গ্রেফতার করা হয়েছে শিবু হাজরাকে। তবে ‘মূল পাণ্ডা’ শাহজাহান এখনও ফেরার।





