ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণা হয়ে গিয়েছে। নির্বাচনী আচরণ বিধিও লাগু হয়েছে। ভোট প্রচারে এখন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন নানান রাজনৈতিক নেতারা। ভোট প্রচারে বেরিয়ে এবার আমজনতাকে হুমকি দিতে শোনা গেল তৃণমূল নেতাকে। বিজেপিকে ভোট দিলে যে ফল ভালো হবে না, এমন হুঙ্কারও শোনা গেল তৃণমূল নেতার গলায়।
কোথায় ঘটেছে এই ঘটনা?
ঘটনাটি ঘটেছে কোচবিহারের দিনহাটা শহরে। আজ, মঙ্গলবার লোকসভা নির্বাচনের প্রচারে বেরিয়েছিলেন ব্লক তৃণমূল নেতা বিশু ধর। কোচবিহারের আসনের তৃণমূল প্রার্থী জগদীশ বসুনিয়ার হয়ে দিনহাটার চওড়াহাত বাজারে প্রচার করছিলেন তিনি। এই বিশু ধর আবার উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন মন্ত্রী উদয়ন গুহর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। এদিন এই চওড়াহাত বাজারে ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে আঙুল উঁচিয়ে হুমকি শানাতে দেখা যায় তৃণমূল নেতাকে।
কী বলেছেন বিশু ধর?
এদিন দোকানে দোকানে গিয়ে হুমকি দেন বিশু ধর। কোনও দোকানে গিয়ে তিনি বললেন, “বিজেপিকে ভোট দেওয়ার পর আপনারা বিপদে পড়লে আমাদের কাছে যাবেন না। নিশীথ প্রামাণিকের কাছে যাবেন”। তার হুঁশিয়ারি, “এখান থেকে পদ্মফুলের কোনও প্রচার হবে না। এটা পরিষ্কার”।
এরপর নিজেই আবার বলেন, “কেউ যদি মনে করেন এটা হুঁশিয়ারি তাহলে এটা হুঁশিয়ারি”। তিনি এও দাবী করেন, “উদয়ন গুহর দরজা সব সময় খোলা থাকে। তবে নিশীথ প্রামাণিককে পাওয়া যায় না। “যে লোক কাজ করবে না, তাঁদের ভোট দেওয়া যাবে না”।
এই এলাকা থেকে বিজেপিকে ভোট দিলে সেই ফল যে ভালো হবে না, তাও ঠারে ঠারে বুঝিয়ে দেন এদিন বিশু ধর। গত নির্বাচনে এই দিনহাটা কেন্দ্র থেকে ৭০০০ ভোটে হেরেছিল তৃণমূল। আবার বিধানসভা ভোটেও হেরেছিলেন উদয়ন গুহ। সেই রেশ টেনেই এদিন বিশু ধর বললেন, “আগেরবার অঙ্ক মেলাতে পারিনি। ৭০০০ হাজার ভোটে হেরেছি। আর এই চওড়াহাট বাজার থেকে বিরূপ প্রতিক্রিয়া এসেছে। আমরা যদি জানতে পারি এই এলাকা থেকে একটা ভোট বাইরে গিয়েছে, তাহলে পাশে পাওয়া যাবে না”।
কী প্রতিক্রিয়া বিজেপির?
তৃণমূল নেতার এহেন শাসানির তীব্র নিন্দা করেছে গেরুয়া শিবির। এর পাল্টা এলাকার বিজেপি নেতা বলেন, “এটাই ওদের সংস্কৃতি। ওদের নরকের কিট ছাড়া আর কেউ কিছু ভাবি না”।





