‘লড়তে চাইছিলাম না, কিন্তু দিদিকে আর না বলতে পারিনি’, নির্বাচনী প্রচারে বেরিয়ে নিজের রাজনীতি না ছাড়ার কারণ জানালেন দেব

ফের একবার ঘাটাল থেকেই তাঁকে প্রার্থী করেছে তৃণমূল। গত দু’বারের ঘাটালের সাংসদ তিনি। সেই কারণে ঘাটাল তাঁকে ছাড়া ভাবতেই পারে না তৃণমূল শিবির। সেই কারণেই তো তিনি রাজনীতি থেকে সরে আসার কথা বললেও তাঁকে নানানভাবে বুঝিয়ে ফের ফেরানো হয় রাজনীতির ময়দানেই। এবার দাসপুরে নির্বাচনী প্রচারে গিয়ে নিজের রাজনীতি না ছাড়ার সিদ্ধান্তের কারণ জানালেন দেব।

গতকাল, সোমবার সকাল থেকেই দাসপুর এলাকায় তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রচারে বের হন দেব। সেই প্রচার সভা থেকেই সাধারণ মানুষের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন তিনি। বলেন, “দিদিকে আর ‘না’ বলতে পারিনি। মানুষের ভালো করার জন্য আবার নির্বাচনের ময়দানে আমি। আর আমি এক টাকাও নিয়ে যাইনি। পাশে থাকার চেষ্টা করেছি মানুষের। আগামিদিনেও পাশে থাকব”।

প্রসঙ্গত, লোকসভা ভোটে দেব প্রার্থী হবেন কী না, এমনকি তিনি তৃণমূলেই থাকবেন কী না, তা নিয়ে কিছুদিন আগে শুরু হয় জোর জল্পনা। লোকসভায় দেব জানিয়েছিলেন সেদিনই ছিল তাঁর সংসদে শেষ দিন। তবে পরবর্তীতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে বৈঠকের পর ফের রাজনীতিতেই ফেরেন তিনি। দেব বলেছিলেন, “আমি ছাড়তে চাইলেও, রাজনীতি আমাকে ছাড়বে না”।

ঘাটালে বিজেপির তরফে প্রার্থী করা হয়েছে দেবেরই সহকর্মী অভিনেতা হিরণ চট্টোপাধ্যায়কে। কিছুদিন দেবের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে প্রকল্পের টাকা থেকে কাটমানি নেওয়ার। সেই নিয়ে দেবকে নানান ভাবে কটাক্ষ করেছেন হিরণ। তিনি এও বলেছেন ঘাটাল মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়িত হলে কেন্দ্রের টাকা থেকে কাটমানি নিতে পারবেন না দেব, সেই কারণেই তিনি এই মাস্টারপ্ল্যান বাস্তবায়িত করছেন না।

এবার প্রচার সভায় সেই অভিযোগের পাল্টা দিয়ে দেব বললেন, “আমার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ আসছে, আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, আমি কারও এক টাকা নিইনি। যদি কারও কাছে প্রমাণ থাকে তা হলে ইডি-সিবিআইয়ের কাছে দিয়ে আসুন। আমি তো ইডি-সিবিআইয়ের ভয়ে দলবদল করিনি”।

নিজের কাজের খতিয়ান তুলে ধরে দেব বলেন, “ঘাটালে বন্যার সময় পাশে দাঁড়িয়েছি। ছবি তোলার জন্য আসিনি। করোনা পরিস্থিতির সময়ও পাশে দাঁড়িয়েছি। নির্বাচনের সময় অনেকে অনেক কথা বলেন। কিন্তু আমি কাজে বিশ্বাস করি। গত ১০ বছর সবাইকে ভালো রাখার চেষ্টা করেছি। যতটা পেরেছি, সৌজন্যের রাজনীতি করেছি। কখনও কাউকে খারাপ কথা বলিনি”।

এরপরই আমজনতার উদ্দেশে দেবের বার্তা, “যদি মনে হয়, আমি ১০ বছরে সাংসদ হিসাবে কাজ করেছি, তা হলে আপনারা জানেন কাকে ভোট দিতে হবে আগামী ২৫ মে। দাসপুরের মানুষকে রাজনীতি শেখাতে হবে না। আপনারা বোঝেন সেটা। যদি মনে হয়, কাজ করেছি আপনারাই ঠিক করবেন”।

আরও অন্যান্য খবর