গতকালই সামনে এসেছে বিজেপির রাজ্য কমিটির তালিকা। বিধানসভা ও পুরভোটে ভরাডুবির পর রাজ্য কমিটিকে ঢেলে সাজিয়েছে বঙ্গ বিজেপি। এর জেরে যেমন অনেক নতুন মুখ ও মহিলারা প্রাধান্য পেয়েছেন, ঠিক তেমনই বাদ পড়েছে অনেক পুরনো মুখ। এর মধ্যে সবথেকে উল্লেখযোগ্য হলেন সায়ন্তন বসু।
দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে রাজ্য কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন সায়ন্তন বসু। কিন্তু গতকাল তালিকা প্রকাশের পর তাঁর নাম তালিকায় মিলল না। এই নিয়ে জল্পনা আগেই তৈরি হয়েছিল। এই ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে দলের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকে বেরিয়ে এসেছিলেন তিনি। আর এরপর যা ঘটল, তা চমকপ্রদই বটে।
এদিন বিজেপি রাজ্য কমিটির তালিকা প্রকাশ হওয়ার পরই এদিন রাতে সায়ন্তন বসুর বাড়িতে পৌঁছলেন তৃণমূলের এক বর্তমান বিধায়ক ও একজন প্রাক্তন বিধায়ক। যদিও এই সাক্ষাতকে সৌজন্য সাক্ষাৎই আখ্যা দিয়েছেন তারা। কিন্তু এ নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে বেশ শোরগোল শুরু হয়েছে।
এদিকে, কমিটি রদলবদলের পরই রাজ্য বিজেপির যুব মোর্চার সভাপতি পদ হারিয়েছেন সৌমিত্র খাঁ। তাঁর বদলে সেই পদের দায়িত্ব পেয়েছেন ইন্দ্রনীল খাঁ। এদিকে রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি পদে এলেন সৌমিত্র খাঁ। সাধারন সম্পাদকের পদে রয়েছেন সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়, সাংসদ জ্যোর্তিময় সিং মাহাতো, বিধায়ক অগ্নিমিত্রা পল, বিধায়ক দীপক বর্মন এবং জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। সাধারণ সম্পাদক পদে নতুন এলেন দুই বিধায়ক ও জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়। সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে বাদ পড়েছেন সায়ন্তন বসু, সঞ্জয় সিংয়ের মতো নেতারা।
এদিকে মহিলা মোর্চার সভানেত্রী ছিলেন অগ্নিমিত্রা পাল। কিন্তু সাধারণ সম্পাদক হওয়ায় এই পদ থেকে বাদ পড়েছেন তিনি। তাঁর জায়গায় মহিলা মোর্চা সভানেত্রী করা হয়েছে অনুজা চক্রবর্তীকে। তফসিলি মোর্চার সভাপতি হয়েছেন বিধায়ক জোয়েল মুর্মু।
অন্যদিকে, দলের সহ-সভাপতি হয়েছেন মোট ১১ জন। এই তালিকায় রয়েছেন অর্জুন সিং, জগন্নাথ সরকাররা। সঞ্জয় সিংকে সাধারণ সম্পাদকের বদলে সহ-সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। রিতেশ তিওয়ারি আগে ছিলেন সহ-সভাপতির পদে। এবার সেই পদ থেকে বাদ পড়েছেন তিনি। নতুন কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে প্রতাপ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিশ্বপ্রিয় চৌধুরীদেরও। জয়প্রকাশ মজুমদার ও কংগ্রেস থেকে আসা সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের মুখপাত্র ঘোষণা করা হয়েছে।





