দেবীদুর্গা রূপে মমতা, মহিষাসুর মোদী! তৃণমূলের বিতর্কিত ব্যানারকে ঘিরে তুমুল উত্তেজনা মেদিনীপুরে, হিন্দু ধর্মের অপমান, দাবী জানিয়ে বিক্ষোভ বিজেপির

পুরভোটের আগে ফের একবার উত্তাল হল রাজ্য-রাজনীতিতে। মেদিনীপুরে তৃণমূলের বিতর্কিত ব্যানারকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়াল গোটা এলাকায়। বিতর্কিত এই ব্যানার অবিলম্বে খুলে ফেলার দাবী বিরোধী শিবিরগুলির। এই ব্যানারের জেরে হিন্দু ধর্মের অপমান করা হয়েছে, হিন্দু ধর্মাবেগে আঘাত আনা হয়েছে বলে দাবী উঠল।

মেদিনীপুরের ১ নম্বর ওয়ার্ডে পুরভোটের জন্য তৃণমূলের একটি ব্যানারকে ঘিরে প্রবল বিতর্ক দানা বাঁধে। এই ব্যানারে দেখা যায় দেবী দুর্গার ছবিতে দেবী দুর্গার মুখে ব্যবহার করা হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মুখের ছবি ও মহিষাসুরের মুখে জায়গায় ব্যবহার করা হয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মুখ।

এখানেই শেষ নয়, এই ব্যানারে দেবী জগদ্ধাত্রীর মুখে বসান হয়েছে সেই ওয়ার্ডের তৃণমূল প্রার্থী অনিমা সাহার মুখ। এছাড়াও বিজেপি, সিপিএম ও কংগ্রেসের প্রতীকের চিহ্ন ব্যবহার করা হয়েছে কিছু পশুর উপর। অভিযোগ, কংগ্রেসকে ছাগলের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে।

এই ব্যানার নজরে আসতেই গোটা এলাকায় হইচই পড়ে গিয়েছে। বিরোধী দলের তরফে তৃণমূলের এই কাজের তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। এই কাজ অত্যন্ত নিম্নরুচির পরিচয় ও হিন্দু ধর্মের অপমান বলে দাবী জানানো হয়েছে বিরোধীদের তরফে। তবে এই বিশ্যর তৃণমূল প্রার্থী অনিমা সাহাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান যে তিনি এই বিষয়ে কিছুই জানেন না।

অনিমা সাহার কথা, “এটা খুবই অন্যায়। আমি সকালে এই বিষয়ে জানলাম। আমি বিষয়টি দেখছি। এই কাজ যেন আর না হয় আমি তা দেখব”। কংগ্রেসকে ছাগলের সঙ্গে তুলনা করার অভিযোগ সম্পর্কে তিনি বলেন, “সেরকম কিছু নয়। এটা যে করেছে খুবই ভুল করেছে, আমি এর জন্য ব্যথিত। আমি জানতাম না”।

এই বিষয়ে স্থানীয়রা জানান, অনিমা সাহা এতটা নিচে নামলেন। তিনি নিজের সঙ্গে দেবদেবীর তুলনা করছেন কী করে। অবিলম্বে সেই ব্যানার খুলে ফেলার দাবী জানানো হয় এলাকাবাসীর তরফে। তারা এও জানান যে তারা এই ঘটনার বিষয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানাবেন।

এই নিয়ে জেলা কংগ্রেস সভাপতি সমীর রায় বলেন, “এত নিম্নরুচির পরিচয় দিয়েছে ওই দল যে আমার প্রতিক্রিয়া দেওয়ার মতো ভাষা নেই। যাদের নিজেদের নেত্রী নিজেকে বিরাট কিছু মনে করেন অথচ তিনি নিজে চরম মূর্খ, যারা ধান্দাবাজি ছাড়া কিছু জানে না, তাদের কিছু বলার নেই। তারা তো পুরসভাকে চৌর্যবৃত্তির জায়গায় নিয়ে গিয়েছে। এরা ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য যা খুশি তাই করতে শুরু করেছে আর এই ব্যানার সেটারই পরিচয়”।

RELATED Articles