পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে ফিল্মি কায়দায় উধাও তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল, শেষমেশ পুরীর হোটেল থেকে আটক করল বিশেষ তদন্তকারী দল!

পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে কার্যত সিনেমার দৃশ্যের মতোই গা-ঢাকা দিয়েছিলেন বিষ্ণুপুরের তৃণমূল বিধায়ক দিলীপ মণ্ডল। দীর্ঘ কয়েকদিন ধরেই তাঁর খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছিল তদন্তকারী দল। অবশেষে ওড়িশার পুরী থেকে তাঁকে আটক করা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। জানা গিয়েছে, পুরীর একটি হোটেলে আত্মগোপন করে ছিলেন তিনি। বিশেষ অভিযান চালিয়ে সেখান থেকেই তাঁকে আটক করে এসটিএফ দল। এই ঘটনাকে ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

সূত্রের দাবি, গত ১৪ মে দিলীপ মণ্ডলের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে পৌঁছেছিল পুলিশ। সেই সময়ই তিনি তদন্তকারীদের চোখ এড়িয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে যান বলে অভিযোগ। এরপর থেকেই তাঁর খোঁজে শুরু হয় জোরদার তল্লাশি। একাধিক জায়গায় খোঁজ চালানো হলেও প্রথমদিকে কোনও হদিশ মেলেনি। পরে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তদন্তকারীরা জানতে পারেন, তিনি পুরীতে আত্মগোপন করে রয়েছেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই বিশেষ দল গঠন করে অভিযান চালানো হয়।

জানা গিয়েছে, পুরীর ব্লু লিলি নামে একটি হোটেলে ছিলেন তৃণমূল বিধায়ক। সেখানে পৌঁছে তাঁকে আটক করে এসটিএফ। যদিও এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত প্রশাসনের তরফে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি, তবে তদন্তকারী সূত্রে খবর, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর গতিবিধির উপর নজর রাখা হচ্ছিল। অবশেষে অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পরই অভিযান চালানো হয়। তাঁকে নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়ে এখন প্রশাসনিক স্তরে আলোচনা চলছে বলেও খবর।

এই ঘটনায় নতুন করে সামনে এসেছে ১৪ মের সেই তল্লাশি অভিযান। তদন্তকারীরা পৈলানে তাঁর একটি বড় বাগানবাড়ির খোঁজ পান বলে জানা যায়। সেই অভিযানের পর বেশ কিছু সিসিটিভি ফুটেজও সামনে আসে, যেখানে তাঁকে দ্রুত এলাকা ছাড়তে দেখা গিয়েছে বলে দাবি। রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, বিধানসভা ভোটের পর থেকেই দিলীপ মণ্ডলকে ঘিরে বিতর্ক বাড়ছিল। বিজেপিকে উদ্দেশ্য করে তাঁর কিছু মন্তব্য নিয়েও ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়েছিল। এরপরই তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয় বলে সূত্রের খবর।

আরও পড়ুনঃ কাজের প্রলোভন দেখিয়ে যৌ*ন হেন’স্থার অভিযোগ! বিপাকে জনপ্রিয় ছবির প্রোডাকশন ডিজাইনার! ফের ইন্ডাস্ট্রির নিরাপত্তা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন?

এর আগেও দিলীপ মণ্ডলের পরিবারকে ঘিরে বিতর্ক সামনে এসেছিল। কয়েকদিন আগে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের মামলায় তাঁর ছেলেকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। সেই ঘটনার পর থেকেই চাপ বাড়ছিল বিধায়কের উপর। রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝেই তাঁর হঠাৎ গা-ঢাকা দেওয়া এবং পরে অন্য রাজ্য থেকে আটক হওয়ার ঘটনায় রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এখন সকলের নজর তদন্তের পরবর্তী ধাপ এবং প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।

Khabor24x7 NewsDesk

আরও পড়ুন

আরও অন্যান্য খবর