নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে দেড় বছর ধরে গোটা রাজ্য উত্তাল হয়ে রয়েছে। গত এপ্রিল মাসে নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে তল্লাশির জন্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার আধিকারিকরা হানা দিয়েছিলেন বড়ঞা বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ সাহার বাড়ি। তল্লাশি চলাকালীনই আচমকাই নিজের দুটি মোবাইল পাশের পুকুরে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছিলেন তৃণমূল বিধায়ক। সেই মোবাইল উদ্ধার করে এবার মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য।
জীবনকৃষ্ণের সেই মোবাইল দুটি পুকুরের জল ছেঁচে ফেলে পাক-কাদা থেকে উদ্ধার করেছিলেন তদন্তকারীরা। সেই মোবাইল থেকে আদৌ কোনও তথ্য মিলবে কী না, তা নিয়ে বেশ সংশয় ছিল। তবে সেই মোবাইল থেকে এবার যে চ্যাটের কথোপকথন মিলল, তা রীতিমতো হতবাক করেছে তদন্তকারীদের।
কী এমন মিলল জীবনকৃষ্ণের চ্যাটে?
তদন্তকারী সংস্থার দাবী, চাকরি দেওয়ার জন্য টাকা নিয়েও শেষ পর্যন্ত যাদের চাকরি দিতে পারেন নি, সেই সব চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে জীবনকৃষ্ণের কথোপকথনের একাধিক তথ্য রয়েছে ওই চ্যাটে। সেখানে টাকা ফেরতের অনুরোধ করেছেন চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ। পাল্টা বিধায়কের তরফে কখনও ‘অর্ধেক টাকা ফেরৎ দেওয়ার আশ্বাস’, কখনও বা ‘বেশি বাড়াবাড়ি করলে এক পয়সা না দেওয়ার হুঁশিয়ারি’ দেওয়া হয়েছে, এমনটাই দাবী করেছেন তদন্তকারীরা।
ঘুষের টাকা নিয়ে জীবনকৃষ্ণকে অভয় দিত পুলিশই
সিবিআই-এর হাতে যে কথোপকথন এসেছে, তাতে জীবনকৃষ্ণ বলেছেন, এই টাকা পয়সার লেনদেন নিয়ে তাঁর পুলিশের সঙ্গেও কথা হয়েছে। চারপাশে যখন চাকরি না পাওয়া পাওনাদারদের ভিড়, তখন তিনি পুলিশের কাছে পরামর্শ নিয়েছিলেন বলে দাবী করা হয়েছে চ্যাটে।
চ্যাট অনুযায়ী, পুলিশ তাঁকে অভয় দিয়েছে যে লোক এসে তাঁকে টাকা দিয়ে গিয়েছে, তিনি তো নিজে টাকা নিতে যাননি, তাই তাঁর ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই। আর এটা গোয়েন্দাদের অনুমান নয়, কথোপকথন থেকেই এই তথ্য স্পষ্ট হয়েছে। ‘এফআইআর করে দেব…’, ‘গ্রেফতার হয়ে যাবে…’ এমন সব কথা রয়েছে ওই চ্যাটে। এই চ্যাট থেকে স্পষ্ট যে তৃণমূল বিধায়ক পাওনাদারদের ভয়ও দেখাতেন।
তদন্তকারীদের সূত্রে খবর, চাকরি দেওয়ার জন্য কারোর থেকে ১২ লক্ষ তো কারোর থেকে আবার ১৮ লক্ষ টাকা নিয়েছেন জীবনকৃষ্ণ। এক গোয়েন্দার কথায়, এতদিন পর্যন্ত যা ছিল, তা সবই অভিযোগ, কিন্তু এখন চ্যাট হিস্ট্রি বলে দিচ্ছে যে তৃণমূল বিধায়ক সত্যিই এই কাজ করেছেন।





