আর জি করের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কর্মবিরতিতে জুনিয়র চিকিৎসকরা। তাদের দাবী, তরুণী চিকিৎসকের ধর্ষণ-খুনের ঘটনার সঠিক বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তারা নিজেদের জায়গা থেকে নড়বেন না। সুপ্রিম কোর্টের তরফেও তাদের কাজে ফেরার আবেদন করা হলেও তা শোনেন নি চিকিৎসকরা। এমন আবহে চিকিৎসকদের কুরুচিকর মন্তব্য করলেন সোনারপুর দক্ষিণ বিধানসভার তৃণমূল বিধায়ক লাভলি মৈত্র।
এর আগে উত্তরপাড়ার বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিক আন্দোলনরত চিকিৎসকদের নিয়ে কুমন্তব্য করেছিলেন। আর এবার তৃণমূলের আরও এক বিধায়ক। আর জি কাণ্ডে দোষীদের শাস্তির দাবীতে গত রবিবার সোনারপুর মোড়ে ধর্নায় বসেন লাভলি মৈত্র। সেখান থেকে তিনি সিপিএমকে শানান। বলেন, “২০১১ সালে রাজ্যে বদল হয়েছিল, কিন্তু বদলা হয়নি। তাই সিপিএমের সায়ন, সুজনরা ঘুরে বেড়ায়। আজকে ২০২৪ সালে এখান থেকে দাঁড়িয়ে বলছি, ২০১১-তে বদল হয়েছিল, ২০২৪ এ বদলা হবে? কী হবে তো”?
এরপরই আন্দোলনরত চিকিৎসকদের কুমন্তব্য করেন তৃণমূল বিধায়ক। বলেন, “দিনের পর দিন আন্দোলনের নামে গরিব, প্রান্তিক মানুষরা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করছেন। দিনের পর দিন ডাক্তাররা কসাইতে পরিণত হচ্ছেন”। তাঁর এহেন মন্তব্যের জেরে প্রবল বিতর্কের মুখে পড়েন তিনি। এমনভাবে চিকিৎসকদের আক্রমণ কীভাবে করতে পারেন তিনি, ওঠে প্রশ্ন।
এসবের মধ্যেই জানা যায়, লাভলি মৈত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়েছে থানায়। সিপিএম নেতা তথা আইনজীবী সায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর বিরুদ্ধে সোনারপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন বলে খবর। সিপিএমের বিরুদ্ধে কুকথা বলায় এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অন্যদিকে, গতকাল, মঙ্গলবারই দলের নেতানেত্রীদের কুমন্তব্য করা থেকে বিরত থাকার কড়া বার্তা দেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, “দল নির্বিশেষে জনপ্রতিনিধিদের আরও নমনীয় ও সহানুভূতিশীল হওয়া দরকার। চিকিৎসক তথা সুশীল সমাজের বিরুদ্ধে কোনও কুমন্তব্য নয়। প্রতিবাদ করার অধিকার সকলের রয়েছে। নিজেদের মনের কথা জানানোর অধিকার রয়েছে। এই কারণেই বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলি থেকে পশ্চিমবঙ্গ আলাদা। বাংলার প্রতিটি মানুষকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে ধর্ষণ বিরোধী কঠোর আইনের জন্য লড়াই করা উচিত। যাতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অপরাধীকে সাজা দেওার জন্য রাজ্য ও কেন্দ্র স্তরে আইন প্রনয়ন করা হয়”।
সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর কথায়, “সতর্ক করাটা উচিত। পরপর উত্তরবঙ্গের মন্ত্রী, কালনা-ক্যানিংয়ের বিধায়ক, সোনারপুরের বিধায়ক। পুরো কুকথার স্রোত চলছে। হুমকি, উস্কানি চলছে। তবে তৃণমূলের সতর্ক করার কী মানে তাও জানি না। তবে আমি লাভলিদের কাউন্ট করি না। কম বয়স। কিছু বোঝে না। এসব বদহজম”।





