‘দৈ’হি’ক গঠন বা গায়ের রঙ দেখেই চেনা যায় আদিবাসীদের’, সন্দেশখালির মহিলাদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য তৃণমূল বিধায়কের, এফআইআরের দাবী শুভেন্দুর

সন্দেশখালি নিয়ে এই মুহূর্তে রাজ্য ও রাজনীতি উত্তপ্ত। তৃণমূল নেতাদের উপর ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন সন্দেশখালির মহিলারা। এমন আবহে এবার আদিবাসীদের সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করে বিতর্কে জড়ালেন তৃণমূল বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামী। তাঁর সেই মন্তব্যের নিন্দা করে এফআইআর করার দাবী তুলেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

বিগত কয়েকদিন ধরেই কার্যত আগুন জ্বলছে সন্দেশখালিতে। এলাকার মহিলারা অভিযোগ তুলেছেন, তাদের উপর নির্যাতন চালিয়েছে তৃণমূল নেতা শেখ শাহজাহান ও তাঁর দুই সাগরেদ উত্তম হাজরা ও শিবু সর্দার। রাতের অন্ধকারে জোর করে মহিলাদের তুলে নিয়ে যাওয়া হত বলে অভিযোগ তাদের। মহিলাদের শ্লী’ল’তা’হা’নি ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে।

তবে শাসক দলের আবার দাবী, হে সমস্ত মহিলারা নিজেদের নির্যাতিত বলে দাবী করছেন, তারা সন্দেশখালির বাসিন্দা নন, তারা নাকি বহিরাগত। সেই দাবীর সপক্ষেই যুক্তি দিয়ে বেফাঁস মন্তব্য করলেন তৃণমূল বিধায়ক নারায়ণ গোস্বামী। তাঁর সেই মন্তব্যের জেরে বিতর্কে জড়ালেন তৃণমূল নেতা।

কী বলেছেন তৃণমূল বিধায়ক?

এক সংবাদমাধ্যমে নারায়ণ গোস্বামী দাবী করেন, “একটা তফশিলি বা আদিবাসী মহিলাকে দৈহিক গঠন বা দেহের রং দেখে চেনা যায়। মনে রাখবেন, কে ফর্সা, কে শ্যামবর্ণ এটা দেখে বোঝা যায়। কিন্তু ক্যামেরার সামনে যে সব মহিলারা এসেছেন তারা সব ধবধবে ফর্সা। তাহলে কি তারা আদিবাসী”? তাঁর দাবী, যারা আন্দোলন করছেন, তারা কেউ বিজেপি, আবার কেউ সিপিএমের লোক।

আদিবাসীদের সম্পর্কে করা এমন মন্তব্যের কারণে রাজ্য-রাজনীতিতে শুরু হয়েছে শোরগোল। এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, “তৃণমূলের কাছে এটাই কাম্য। ওদের মন্ত্রী রাষ্ট্রপতির চেহারা নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন”। তিনি এও দাবী করেছেন যাতে নারায়ণ গোস্বামীর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা করে তফশিলি জাতি ও উপজাতি কমিশন।

নিজের মন্তব্যে অনড় তৃণমূল বিধায়ক

তবে বিতর্ক থাকলেও নিজের বক্তব্য থেকে কিন্তু একচুলও সরতে রাজি নন তৃণমূল বিধায়ক। তাঁর দাবী, রাজ্যপাল সন্দেশখালি যাওয়ার পত যে মহিলা ওড়নায় মুখ ঢেকে সংবাদমাধ্যমের সামনে কথা বলেছেন, সেই মহিলাকেই আবার বিজেপি বসিরহাট এসপি ফিস অভিযানে সুকান্ত মজুমদারের পিছনে বসে থাকতে দেখা গিয়েছে। তবুও কী আদিবাসী সম্পর্কে বিধায়কের এমন মন্তব্য মেনে নেওয়া যায়?

RELATED Articles