একটি নির্বাচন কেবল একটি রাজনৈতিক লড়াই নয়, অনেক সময় তা রক্তাক্ত বাস্তবের মুখোমুখি দাঁড় করায় নিরপরাধ মানুষদেরও। সম্প্রতি কালীগঞ্জে ঘটে যাওয়া এক মর্মান্তিক ঘটনায় তা আবারও প্রমাণিত হল। রাজনৈতিক হিংসার বলি হল চতুর্থ শ্রেণির এক খুদে ছাত্রী, যাকে ছিন্নভিন্ন করে দিল বোমার আঘাত। ভোটের উত্তাপ এখনও স্তিমিত হয়নি, তার মধ্যেই এই মৃত্যু যেন ছাপ ফেলে গেল গোটা সমাজের অন্তরে।
মঙ্গলবার এই নির্মম ঘটনার পর শোকস্তব্ধ পরিবারকে দেখতে পৌঁছন ডেবরার তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। তাঁর হাতে ছিল একটি খয়েরি খাম এবং ক্ষতিপূরণস্বরূপ কিছু টাকা। হুমায়ুন কবীর জানান, তিনি ব্যক্তিগতভাবে, একটি অরাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে এসেছেন সহানুভূতির বার্তা নিয়ে। তবে সঙ্গে সঙ্গেই যেন বদলে যায় আবহ। তামান্নার মা কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন—”কীসের জন্যে?… এমন শোক আমায় দেখাবেন না। আমি ধৈর্য রাখতে পারব না।”
মৃত শিশুর মায়ের প্রতিক্রিয়া ছিল আবেগপ্রবণ হলেও জোরালো। তিনি জিজ্ঞেস করেন, এই অর্থ কোন অপরাধের জন্য ক্ষতিপূরণ? এমনকী প্রশ্ন তোলেন ভোটের আগে যাঁরা দরজায় দরজায় ভোট চাইতে গিয়েছিলেন, তাঁরা আজ কোথায়? বিধায়ক জানান, তিনি কলকাতা থেকে এসেছেন, তখনই তামান্নার মা পাল্টা বলেন, “নবনির্বাচিত বিধায়ক আলিফা খাতুন তো একবারও আসেননি!” পাশ থেকে আরও এক মহিলাও বলেন, “আমরা সবই বুঝলাম… কিন্তু নেব না।”
এই প্রতিক্রিয়ার জবাবে বিধায়ক হুমায়ুন কবীর নিজেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বলেন, “যার হাতে বোমা থাকবে, তিনি কোন ধর্মের বা দলের তা দেখার দরকার নেই। এমন মানুষদের প্রত্যাখ্যান করা উচিত। আমি তো জানি কারা এর পিছনে আছে… সাধারণ মানুষকে এবার মুখ খুলতেই হবে।” তাঁর কণ্ঠে যেন ঝরে পড়ে এক গভীর অনুশোচনা ও অসহায়তা, রাজনৈতিক পরিচয় ছাপিয়ে গিয়ে একজন মানুষ হিসেবে দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ Snake in Cake Shop: নামী কেক ব্র্যান্ডের দোকানে কেকের পাশে দেখা গেল সাপ, আতঙ্কে ছড়াল ক্রেতাদের মধ্যে!
এই ঘটনার একটি ভিডিও ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পাল সেই ভিডিও পোস্ট করে রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে তীব্র কটাক্ষ করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, তৃণমূল সরকার শিশু মৃত্যুর দায় এড়াতে পারে না। একের পর এক এমন ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে, এবং তার উত্তর দিতে হবে রাজ্য সরকারকে—এই বার্তা দিয়েছেন তিনি।





