বিগত কয়েকদিনের বৃষ্টির জেরে কলকাতা ও কলকাতা-সংলগ্ন একাধিক এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ে। কলকাতার দিকের নানান জায়গায় জল নেমে গেলেও হাওড়া ও অন্যান্য জেলা এখনও প্লাবিত। একাধিক জায়গায় এই জমা জলের জেরে বেশ সমস্যায় পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে।
উত্তর হাওড়ার বামনগাছি এলাকা এখন জলমগ্ন। পুরসভাকে একাধিকবার জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি বলে দাবী স্থানীয়দের। এবার তাই হাওড়ার পুরসভার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে ধর্নায় বসলেন খোদ এলাকার বিধায়ক গৌতম চৌধুরী। জমা জলের মধ্যেই ধর্নায় বসেন তিনি।
তাঁর অভিযোগ, এলাকায় এখন জল জমে। বেশ কয়েকটি ঘরে প্রায় কোমর সমান জল। পুরসভাকে জানিয়ে কোনও কাজ হয়নি। এই কারণেই তিনি প্রতিবাদ জানানোর এই অভিনব পন্থা খুঁজে নিলেন।
এদিকে হাওড়ার উদয়নারায়ণপুর ও আমতায় বন্যা প্লাবিত। ডিভিসির জল ছাড়ার কারণেই এইও বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁর দাবী, ডিভিসি না জানিয়েই জল ছেড়ে দিয়েছে, এই কারণেই এই পরিস্থিতি। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “এটা ম্যান মেড বন্যা’। তবে এই নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে বেশ কটাক্ষ শানিয়েছেন বিজেপি, কংগ্রেস ও বাম নেতারা।
মমতার এই ‘ম্যান মেড’ বন্যার মন্তব্যকে কটাক্ষ করে প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অধীর চৌধুরী জানান, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঠিকই বলেছেন, এটা ম্যান মেড বন্যা। তবে ওর ম্যানেদের দ্বারা মেড হওয়া বন্যা এটা। এতদিন ভোট করছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। একবারও বন্যার কথা বলেছেন? তখন ওর লোকেরা এটা মেড করেছিল”।
অন্যদিকে বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার এই বিষয়ে বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই এই ম্যান মেড বন্যা করেছেন। উনি ডিভিসির নামে নির্জলা মিথ্যে কথা বলছেন। ডিভিসি সবসময় জল ছাড়ার আগে রাজ্যকে জানায়। কিন্তু রাজ্য পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারে নি। এই কারণেই আজ লক্ষ লক্ষ মানুষ বিপদের মুখে”।
সুকান্ত আরও বলেন, “কে বাঁধগুলো বারবার ভেঙে যায়? এসব ম্যান মেড বন্যা বলা হচ্ছে কারণ কেন্দ্রের কাছে আবার অর্থ চাইবে রাজ্য সরকার। তারপর সেই টাকায় বাঁধ না সারিয়ে দান খয়রাতি করবে”।





