তৃণমূলে গৃহযুদ্ধ নতুন কোনও ঘটনা নয়। এর আগেও দলীয় কোন্দল দেখা গিয়েছে ঘাসফুল শিবিরের মধ্যে। এ নিয়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের তরফে বারবার সতর্কও করা হয়েছে। কিন্তু সেভাবে লাভের লাভ কিছুই হয়নি। দলীয় নেতারা নিজেদের মতোই অন্তর্দ্বন্দ্ব চালিয়ে গিয়েছেন। এবারও ফের তৃণমূলে ধরা পড়ল গৃহযুদ্ধ। উঠল তৃণমূল নেত্রী মহুয়া মৈত্রকে পদ থেকে সরানোর দাবী।
তৃণমূলের বিতর্কিত নেত্রী মহুয়া মৈত্র। নানান বিতর্কে জর্জরিত হলেও গত লোকসভা ভোটে তাঁর উপরেই আস্থা রেখেছিলেন দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটে জিতে কৃষ্ণনগরের সাংসদ হয়েছেন মহুয়া। কিন্তু তাঁকে নিয়ে তাঁর সংসদীয় এলাকায় অভিযোগ কম নয়। মহুয়া তাঁর সংসদীয় এলাকার প্রত্যেক বিধানসভায় বিধায়কের সমান্তরাল সংগঠন গড়ছেন, এমনটাই দাবী সে এলাকার বিধায়কদের।
এবার সেই বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়করাই চিঠি দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তাদের অভিযোগ, স্থানীয় সংগঠনের কাজে সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে পাওয়াই যায় না। মহুয়া দিল্লির কাজেই বেশি ব্যস্ত থাকেন। নিজের সংসদীয় এলাকায় সময় দেন না তিনি। সেই কারণে কৃষ্ণনগর জেলা সাংগঠনিক সভাপতির পদ থেকে মহুয়া মৈত্রকে সরানোর দাবী জানিয়ে চিঠি দিলেন ৬ বিধায়ক।
মহুয়াকে সরানোর দাবী তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি দিয়েছেন উজ্জ্বল বিশ্বাস, রুকবানুর রহমান, বিমলেন্দু সিনহা, কল্লোল খান-সহ ৬ বিধায়ক। এই চিঠিতে মহুয়ার বদলে অন্য কাউকে সংগঠনের সভাপতি করার আর্জি জানিয়েছেন তারা। এই চিঠির একটি প্রতিলিপি রাজ্য কমিটির তৃণমূল সভাপতি সুব্রত বক্সিকেও দেওয়া হয়েছে হয়েছে।
বলে রাখি, মহুয়া মৈত্রের সঙ্গে তাঁর সংসদীয় এলাকার বিধায়কের দ্বন্দ্ব নতুন কোনও ঘটনা নয়। বিধায়করা এর আগেও মহুয়ার বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন। আবার মহুয়াও পাল্টা অভিযোগ করেছিলেন, নির্বাচনের সময় নাকি তিনি বিধায়কদের সহযোগিতা পান না। তবে এরপরও দল বারবার জাতীয় স্তরে তাঁর উপর ভরসা রেখেছে।
প্রসঙ্গত, তৃণমূলের রদবদল নিয়ে বেশ চর্চা চলছে কিছুদিন ধরেই। সংগঠনে রদবদলের জন্য আগেই একটি খসড়া তালিকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও সেই তালিকা নিয়ে সেভাবে কোনও উচ্চবাচ্য করেন নি দলনেত্রী। এরই মধ্যে এবার বিধায়কদের চিঠি এল মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে। বিধায়কদের আর্জি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মেনে নেন কী না, এখন সেটাই দেখার!





