বিজেপির মঞ্চে তৃণমূল সাংসদ! বিজেপি প্রার্থীর হয়ে প্রচার, লোকসভা ভোটের আগে ফের দলবদলের সাক্ষী থাকবে ঘাসফুল শিবির?

নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। ১৯ এপ্রিল থেকে শুরু লোকসভা নির্বাচন। এই মুহূর্তে সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। তৃণমূল সম্পূর্ণ প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করলেও, বিজেপি বা সিপিএম এখনও তা করে নি। তবে প্রচার শুরু হয়ে গিয়েছে পুরোদমে। এরই মধ্যে আচমকাই বিজেপির মঞ্চে দেখা গেল তৃণমূল সাংসদকে।

প্রথম দফার তালিকা প্রকাশ করেছে বিজেপি। সেই তালিকায় নাম রয়েছে বাংলার ২০ জন প্রার্থীর। কাঁথি থেকে বিজেপি প্রার্থী করেছে শুভেন্দু অধিকারীর ভাই সৌমেন্দু অধিকারীকে। সেই লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ হলেন শিশির অধিকারী যিনি তৃণমূলে রয়েছেন। তৃণমূলের সাংসদ হয়েও এবার সৌমেন্দু অধিকারীর হয়ে প্রচার করতে দেখা গেল শিশির অধিকারীকে। যা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

বিজেপির মঞ্চে তৃণমূল সাংসদ! বিজেপি প্রার্থীর হয়ে প্রচার, লোকসভা ভোটের আগে ফের দলবদলের সাক্ষী থাকবে ঘাসফুল শিবির?

প্রচারে গিয়ে শিশির অধিকারীকে বলতে শোনা যায়, “দেশকে উন্নয়নের পক্ষে মোদীজিকে ভোট দিন। আগামী দিনে মানুষের কাছে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পৌঁছে দিতে বাংলায় ৪২ আসনেই ফোটান পদ্ম। আর সৌমেন্দু অনেক ভোটেই জিটবে। রামনগর কখনও ফেরায়নি”।

বলে রাখি, শিশির অধিকারী তৃণমূলের সাংসদ হলেও দলের সঙ্গে তাঁর যোজন দূরত্ব। শুভেন্দু অধিকারী বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই বিজেপির দিকেই ঝুঁকেছেন শিশির অধিকারীও। বিজেপির হয়েই নানান সময় নানান মন্তব্য করতে শোনা গিয়েছে তাঁকে। আর তৃণমূল বিরোধী কথা শোনা গিয়েছে তাঁর মুখে। তৃণমূলের সাংসদ হলেও তিনি যে বিজেপিকেই সমর্থন করেন, তা আর কারোর বুঝতে বাকি নেই। এবারের লোকসভা নির্বাচনে কাঁথি থেকে শিশির অধিকারীকে আর টিকিটও দেয় নি তৃণমূল। তিনি আপাতত বিদায়ী সাংসদ।

এদিন প্রচারে বেরিয়ে কাঁথির বিজেপি প্রার্থী সৌমেন্দু অধিকারী বলেন, “তৃণমূলের সন্ত্রাসের প্রতিবাদে জানাতে মানুষ তৈরি। গতকাল দেখা গেল এক ঝুড়ি লোক নিয়ে আমাদের প্রতিবাদ সভার পাল্টা প্রতিবাদ সভা করতে। মানুষ দেখছে নির্বাচন ঘোষণার সঙ্গে-সঙ্গে কীভাবে হুমকি দিচ্ছেন। আগামী দিনে গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নরেন্দ্র মোদীর হাত শক্ত করবে”।

প্রসঙ্গত, শুধুমাত্র সৌমেন্দু অধিকারীই নন, কিছুদিন আগেই দিল্লি গিয়ে বিজেপিতে যোগ দেন তমলুকের বিদায়ী তৃণমূল সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারী অর্থাৎ শুভেন্দুর আরেক ভাই। এখন অধিকারী গড়ে যে পদ্মই ফুটেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। তমলুক থেকে দিব্যেন্দুকে টিকিট দেয়নি তৃণমূল। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর তিনি এবার কোনও কেন্দ্র থেকে টিকিট পান কী না, এখন সেটাই দেখার।  

RELATED Articles