গত সপ্তাহ থেকেই শুরু হয়েছে মাধ্যমিক। বেশ কিছু পরীক্ষা হয়ে গিয়েছ্র। বাকি রয়েছে এখনও কিছু পরীক্ষা। বাড়িতে বাড়িতে পড়ুয়াদের প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। এই সময়ই বিতর্কিত কাণ্ডে নাম জড়াল তৃণমূল সাংসদ প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের।
অভিযোগ, একদিকে মাধ্যমিক পড়ুয়ারা যখন পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে, সেই সময় তারস্বরে হিন্দি গান বাজিয়ে বসন্ত উৎসবে মাতলেন তৃণমূল সাংসদ। গত শুক্রবার রাতে ঘটেছে এই ঘটনা। আর এরপরই এই নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। পড়ুয়াদের অভিভাবকদের অভিযোগ, এর জন্য তাদের সন্তানদের পড়াশোনার ক্ষতি হয়েছে।
সূত্রের খবর অনুযায়ী, গত শুক্রবার সন্ধ্যে সাতটা থেকে রাত সাড়ে দশটা পর্যন্ত বসন্ত উৎসব উপলক্ষে জলসা হয় হাওড়ার সুরকিকল এলাকায়। হাওড়া সদরের তৃণমূল সাংসদ প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির সামনে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল, স্থানীয় মহিলাদের নিয়ে এই অনুষ্ঠানের মূল উদ্যোক্তা ছিলেন স্বয়ং সাংসদই।
এদিন সন্ধ্যের পরই বিশাল বক্স বাজিয়ে একের পর এক চটুল হিন্দি সিনেমার গানের সঙ্গে নাচতে থাকেন শিল্পীরা।স্থানীয় মহিলারাও গানের তালে নাচতে থাকেন। এই অনুষ্ঠানে সাংসদ নিজে উপস্থিত ছিলেন। সেই সময় ওই এলাকায় একাধিক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী পড়াশোনায় ব্যস্ত। তাঁদের অভিভাবকরা অভিযোগ করেন যে শনিবার জীবনবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রস্তুতিতে তাদের সন্তানদের অসুবিধা হয়েছে। উপায় না দেখে দরজা-জানলা বন্ধ করে কোনও রকমে পড়াশোনা করেছে পড়ুয়ারা।
এই গোটা ঘটনা নিয়ে শাসকদোলের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের অভিযোগ, চটুল হিন্দি গানের সঙ্গে চলেছে উদ্দাম নাচ। জোরে জোরে গান বাজানোর জেরে ক্ষতি হয়েছে পড়ুয়াদের। আর এই ঘটনায় কোনও বাধা দেয়নি পুলিশ-প্রশাসন।
সিপিএমের জেলা সম্পাদক দিলীপ ঘোষ এই ঘটনায় বলেন, “পরীক্ষার্থীদের কথা ভেবে সাংসদের বক্স বাজানো উচিত হয়নি। এতে তাদের ক্ষতি হয়েছে। পরীক্ষার সময় মাইক বাজানো নিয়ে প্রশাসনিক নির্দেশ মেনে চলা উচিত ছিল। যারা আইনের রক্ষক তারাই আইন ভাঙছেন”।
জেলা তৃণমূলের তরফেও গোটা ঘটনাকে ভালো চোখে দেখা হয়নি। সাংসদের এমন আচরণের কঠোর সমালোচনা করে তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সম্পাদক শ্যামল মিত্র বলেন, “প্রশাসনের নির্দেশ আছে পরীক্ষার সময় মাইক না বাজানো। তা সত্ত্বেও সাংসদ যেভাবে কাজটা করেছেন সেটা করা ঠিক হয়নি। সরকার বা দল কখনো এই ধরনের কাজকে সমর্থন করে না”।
এদিকে আবার সমস্ত অভিযোগ উড়িয়ে প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “ঠিক বাড়ির সামনে এই অনুষ্ঠান হয়নি। একটু দূরেই হয়েছে। এর আগেও অনুষ্ঠান করেছে ওরা। আমার বাইরে যাওয়ার কথা। সেই কারণে ওরা আগেভাগেই অনুষ্ঠান করেছে। ওই এলাকায় একটি ক্লাব রয়েছে। সেই ক্লাবের মধ্যেই ওরা করে এইসব। যদিও, আওয়াজ বাইরে যায়নি একদম। গানের মধ্যে বাংলা গান, রবীন্দ্রনাথের গান গেয়েছে শুধু”।






‘ভগবান শুধু আশা দেন, কাজ কিছুই করেন না!’ ঈশ্বরকে নিয়ে বিস্ফো’রক জাভেদ আখতার