ফের একবার প্রকাশ্যে এল তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দ্ব। দলত্যাগী রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলে ফেরানো নিয়ে তৃণমূলের নানান নেতাদের মধ্যেই ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এবার রাজীবের নাম না করেই তাঁকে এলাকায় ঢুকতে দেবেন না বলে হুঁশিয়ারি শানালেন হাওড়া সদর তৃণমূল সাংসদ প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। এরই সঙ্গে দলের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে তিনি বলেন যে রাজীবকে কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যাবে না।
গতকাল, রবিবার, হাওড়া ডুমুরজোলা ইন্ডোর স্টেডিয়ামে স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা বিজয়া সম্মিলনীর আয়োজন করেন। এদিনের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সাংসদ প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়। এই অনুষ্ঠানেই রাজীবকে পরোক্ষভাবে হুঁশিয়ারি শানান তিনি।
প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “বিধানসভা নির্বাচনের আগে দলের দুঃসময়ে যাঁরা দল ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন, তাঁরা দলের নামে যা-নয়-তাই কুৎসা করেছিলেন। আজ তিনি দিদির ছবি নিয়ে ঘুরছেন। তিনি বলছেন আমাকে ভুল বোঝানো হয়েছিল। ৫০ বছরের আধদামরা লোক হয়ে বলছেন তাঁকে ভুল বোঝানো হয়েছে। দলের প্রতি ভালোবাসার নামে ন্যাকামো করা হচ্ছে”।
তিনি এও জানান যে এই সমস্ত লোককে তিনি একেবারেই মেনে নেবেন না। তাঁর কথায়, দল যদি তাঁকে সাংসদ পদ ত্যাগ করার কথা বলে, তাহলে তিনি তাই-ই করে ‘দিদি’র পায়ের সামনে বসে থাকবেন। কিন্তু তবুও রাজীবকে মেনে নেওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়।
উল্লেখ্য, একুশের বিধানসভার আগেই দলের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তৃণমূল ছাড়েন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। চার্টার্ড বিমানে চড়ে দিল্লি গিয়ে অমিত শাহ্’র হাত থেকে গেরুয়া পতাকা তুলে যোগ দেন বিজেপিতে। নির্বাচন হাওড়ার ডোমজুড় থেকে লড়েন তিনি। কিন্তু জিততে পারেন নি। এরপরই বিজেপির প্রতি মোহভঙ্গ হয় তাঁর। তৃণমূলে ফেরার জন্য আর্জি জানান।
গত ৩১শে অক্টোবর ত্রিপুরায় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাতে ফের তৃণমূলে ওয়াপসি ঘটে রাজীবের। তবে রাজীবের এই প্রত্যাবর্তন একেবারেই ভালোভাবে নেয়নি দলের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে কর্মীরা। রাজীবের এই প্রত্যাবর্তনের ঘটনায় সরব হন সৌগত রায় থেকে শুরু করে কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, কুণাল ঘোষরা।





