‘মাথায় নয়, হাঁটুতে আর পেছনে মারো, যা হবে আমি বুঝে নেব’, পঞ্চায়েত ভোটের আগে বিরোধীদের মারধরের নির্দেশ তৃণমূল নেতার

সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন। তা নিয়ে ইতিমধ্যেই শাসক-বিরোধীর মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়ে গিয়েছে। একদিকে তৃণমূলের নানান দুর্নীতিকে হাতিয়ার করে তৃণমূলকে আক্রমণ করছে বিরোধী দলগুলি, তো অন্যদিকে আবার নানান বিরোধী দলগুলির বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি শানাচ্ছে তৃণমূল। এমনই এক ঘটনায় নাম জড়াল ভাঙরের ভোগালি ২ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান মোচ্ছাদের হোসেনের।

এর আগে তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে নানান শীর্ষ নেতারা বারবার সতর্ক করেছেন যে পঞ্চায়েত নির্বাচনে যাতে কোনও ধরণের হিংসা না হয়। জোর দেখিয়ে মারামারি করে ভোট আদায় থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে দলের লোকজনদের। কিন্তু দলের নেতারাই যে শীর্ষ নেতাদের কথায় আমল দিচ্ছেন না, তা মোচ্ছাদের হোসেনের বক্তব্যেই স্পষ্ট।

গত শনিবার ভাঙরের মোল্লাপাড়ায় একটি দলীয় কর্মী সভায় যোগ দেন তৃণমূল নেতা আরাবুল ইসলাম এবং পঞ্চায়েত প্রধান মোদাচ্ছের হোসেন। এদিব মঞ্চে দাঁড়িয়ে মোদাচ্ছের বলেন, “পঞ্চায়েত ভোটে ঝামেলা তৈরি হতে পারে। প্রত্যেকটা বুথে ২০ থেকে ৪০ টা ছেলে তৈরি রাখতে হবে। বাদ বাকি যা হবে, বুঝে নেব। আসলে তোমাদের যখন মারতে বলি, তোমরা মাথা ফাটিয়ে দিয়ে চলে আসো। এটা কিন্তু ভুল। তোমাদের পেছনে মারতে বললে মাথায় মারো। আগে চিন্তা ভাবনা করো, তারপরে মেরো”।

এখানেই শেষ নয়। তিনি আরও বলেন, “মাথায় মারলে তা ফেটে রক্ত বেরোবে, তখন কেস হতে পারে। এর থেকে ভালো, পেছনে মারবে। রাত্রিবেলা কোথাও পাঠালে মাথা ফাটিও না। হাঁটুতে মারো আর পেছনে মারো। বাদ বাকি যা হবে, আমি বুঝে নেব”।

তৃণমূল নেতার এমন মন্তব্য ইতিমধ্যেই বঙ্গ রাজনীতিতে শোরগোল ফেলেছে। এই নিয়ে শাসক দলকে তোপ দেগেছে বিরোধী দলগুলি। বিজেপি মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “রাজ্যবাসীর পাশাপাশি সাংবাদিকদেরও দুর্ভাগ্য। এই নিয়ে খবর হচ্ছে। আসলে যে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীকে ‘তুই’, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘হোদল কুতকুত’ এবং অন্যান্য নেতাকর্মীদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করে যান, সেখানে এই সকল বক্তব্য উঠে আসবেই”।a

RELATED Articles