নিজের দফতরেই বন্দুক হাতে ছবি তৃণমূল পঞ্চায়েত সভাপতির, মমতার মালদা সফরের মধ্যেই এই ছবিকে ঘিরে ব্যাপক শোরগোল

উত্তরবঙ্গ সফরে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমেই তিনি গিয়েছেন মালদায়। সেখানে প্রশাসনিক বৈঠক সেরেছেন মুখ্যমন্ত্রী। আর তাঁর এই সফরের মধ্যেই তৃণমূল পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মৃণালিনী মাইতির একটি ছবি বেশ ভাইরাল হল যা নিয়ে এখন চর্চা তুঙ্গে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া এই ছবিতে দেখা যাচ্ছে মৃণালিনী মাইতি নিজের দফতরে বন্দুক হাতে নিয়ে ছবি তুলছেন। এই নিয়েই শুরু রাজনৈতিক চাপানউতোর। জেলা তৃণমূলের তরফে জানানো হয়েছে যে এই বিষয়ে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিজেপির কটাক্ষ আগ্নেয়াস্ত্র রাখা তো তৃণমূলের রীতি।

মৃণালিনী মণ্ডল মাইতি ওল্ড মালদহ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি তথা মালদহ মহিলা তৃণমূলের সভানেত্রী। নিজের দফতরে বন্দুক হাতে তাঁর ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। তবে এই বিষয়ে মৃণালিনী দেবীর দাবী, তাঁর এই ছবিটি প্রায় বছর খানেকের পুরনো। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে এখন নতুন করে তা নিয়ে বিতর্ক তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু তাঁর এই দাবী মানতে নারাজ বিরোধীরা।

মৃণালিনী দেবী এর আগেও বারবার বিতর্কে জড়িয়েছেন। বিডিও অফিসের মধ্যেই সরকারি কর্মীকে মারধর ও আরও অন্যান্য অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। তাঁর স্বামীও একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত। এরই মধ্যেও বন্দুক হাতে তাঁর এই ছবি ভাইরাল হওয়ায় নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

এই বিষয়ে জেলা বিজেপি সভাপতি গোবিন্দ চন্দ্র মণ্ডল বলেন, “১১ বছরে গোটা রাজ্যের পাশাপাশি মালদহকেও বারুদের স্তূপে দাঁড় করিয়েছে শাসকদল। ওদের অফিসে এটাই কালচার। পিস্তল আছে, খুঁজলে বোমা পাওয়া যাবে, খুঁজলে একে ৪৭ পাওয়া যেতে পারে। এটা ওদের কালচার হয়ে দাঁড়িয়েছে”।

তৃণমূলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী বলেন, “সরকারি চেয়ারে বসে এই ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে খেলা করাটা ঠিক নয়। আগ্নেয়াস্ত্রটি খেলনা নাকি আসল, সেটা পুলিশ অনুসন্ধান করে বলবে। তবে আমি যেটা ছবিতে দেখলাম, তাতে মনে হচ্ছে, এটা অরিজিনাল আগ্নেয়াস্ত্র। জনগণের কাছে এর ফলে দলের ভাবমূর্তিই নষ্ট হচ্ছে”।

RELATED Articles