আর জেলা সভাপতি রইলেন না তিনি। এবার প্রভাবশালী তকমাও ঘুচল তাঁর। বীরভূমের জেলা সভাপতির পদ থেকে বাদ পড়লেন অনুব্রত মণ্ডল। এবার থেকে বীরভূম জেলার সংগঠন দেখবে কোর কমিটিই। গরু পাচার মামলায় গ্রেফতারির কারণেই কী এবার সুকৌশলে কেষ্টকে ছেঁটে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু হল? উঠছে প্রশ্ন।
জেলার তৃণমূল চেয়ারপার্সন পদে রইলেন আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়। ঘোষণার পরই দলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। বলেন, “এই সুযোগ দেওয়ার জন্য দলকে ধন্যবাদ”। অনুব্রত মণ্ডলের জেলা সভাপতি না থাকা নিয়ে কোনও মন্তব্য করেননি তিনি। কোর কমিটির কোনও সদস্যও এই বিষয়ে মুখ খোলেন নি।
বছর গড়ালেই লোকসভা নির্বাচন। এর আগে অনুব্রত মণ্ডলের জেলের বাইরে আসার তেমন কোনও আশা নেই। ফলে চব্বিশের নির্বাচন অনুব্রত ছাড়াই লড়তে হবে বীরভূমের তৃণমূলকে। সেই কারণেই এই মুহূর্তে জেলা সভাপতি ও চেয়ারপার্সন পদের রদবদল করল তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। জেলার নতুন পদাধিকারীদের তালিকা বের হতেই দেখা যায়, তাতে জেলা সভাপতি হিসেবে নাম নেই কেষ্টর। এর বদলে লেখা হয়েছে কোর কমিটি।
প্রসঙ্গত, ২০১১ সালে বীরভূমের জেলা তৃণমূল সভাপতি হন অনুব্রত মণ্ডল। সেই থেকেই এও পদ সামলাচ্ছিলেন তিনি। তবে গত বছর আগস্ট মাসে গরু পাচার মামলায় গ্রেফতার হন কেষ্ট। এখন তিহাড় জেলে বন্দী তিনি। তাঁর গ্রেফতারির পরও তাঁকে সমর্থন করতে দেখা গিয়েছিল দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। তিনি বলেছিলেন, তিনি নিজেই বীরভূম দেখবেন। ৯ সদস্যের একটি কোর কমিটি গড়ে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু এবার পদাধিকারীদের তালিকা আসতেই তাতে দেখা মিলল না অনুব্রতর নামের।
এমন ঘটনার পরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে যে তাহলে কী আর অনুব্রততে ভরসা নেই তৃণমূলের? এভাবেই কী তাহলে অনুব্রতকে ছেঁটে ফেলার প্রক্রিয়া শুরু করে দিল ঘাসফুল শিবির? এবার বীরভূম কেষ্টহীন থাকবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।





