বীরভূমে যেন পঞ্চায়েত ভোটেরই পুনরাবৃত্তি ঘটল। বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতাতেই সাঁইথিয়া পুরসভা দখল করে নিল ঘাসফুল শিবির। এমনকি। বজবজেও দেখা গেল এই একই চিত্র। সেখানেও জিতল তৃণমূল। এই ঘটনায় শাসকদলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ তোলা হয়েছে বিরোধীদের তরফে।
পুরভোটের আগের থেকেই বেশ উত্তপ্ত ছিল সাঁইথিয়া। বিজেপির বীরভূম সাংগঠনিক জেলার কোষাধ্যক্ষ হলেন উদয়শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়। অভিযোগ, গত রবিবার তাঁর বাড়িতে দুষ্কৃতীরা তাণ্ডব চালায়। বিজেপি নেতার বাড়ির সামনে জড়ো হয়ে গ্রিলের গেট ভেঙে বাড়ির ভিতর ঢুকে পড়ে দুষ্কৃতীরা। চলে ভাঙচুর। এই ঘটনায় তৃণমূলের দিকে আঙুল তোলে বিজেপি। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে শাসকদল।
গতকাল ছিল পুরভোটের জন্য মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন। সাঁইথিয়া পুরসভার ১৬টি ওয়ার্ডের প্রত্যেকটি ওয়ার্ডেই প্রার্থী দিয়েছে তৃণমূল। এই পুরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড থেকে লড়ছে সিপিএম। কিন্তু বাকি কোনও ওয়ার্ডে প্রার্থী নেই। এর ফলে ১, ৩, ৪, ও ১২ নম্বর ওয়ার্ডেই শুধু ভোট হবে। ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতাতেই জিতে গিয়েছে তৃণমূল।
কিন্তু এমন কেন হল?
এই বিষয়ে বিজেপির বীরভূমের জেলার সভাপতি ধ্রব সাহার অভিযোগ, সন্ত্রাস করে তাদের প্রার্থী দিতে দেওয়া হয় নি। তবে এই অভিযোগ উড়িয়ে বিজয়োল্লাসে মেতেছেন তৃণমূল কর্মী-সমর্থকরা। দলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের কথায়, “বিরোধীরা যদি প্রার্থী দিতে না পারে, তাহলে শাসকদলের কী করার আছে”?
উল্লেখ্য, এর আগে পঞ্চায়েত ভোটেও বীরভূমে জেলা পরিষদ থেকে পঞ্চায়েত পর্যন্ত বিনা প্রতিন্দন্দ্বিতায় জিতেছিল তৃণমূল। সেই সময়ও শাসকদলের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসের অভিযোগ উঠেছিল।
তবে শুধুমাত্র সাঁইথিয়াই নয়, বজবজ পুরসভাতেও ধরা পড়েছে এই একই চিত্র। সেখানেও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতাতেই জিতে গিয়েছে তৃণমূল। এখানে ২০টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১২টি ওয়ার্ডেই জয়ী তৃণমূল। বজবজ পুরসভায় মাত্র ৮টি ওয়ার্ডে ভোট হবে। এই সবকটিতেই প্রার্থী দিয়েছে সিপিএম। অন্যদিকে কংগ্রেস দিয়েছে ৬টি ওয়ার্ডে ও বিজেপি মাত্র ২টি ওয়ার্ডে প্রার্থী দিয়েছে।





