ভিডিও কলে দেখাচ্ছেন বোমা। তার দামও বলছেন ইশারায়। তৃণমূল কর্মীর এই ভিডিও ভাইরাল হতেই হতবাক পুলিশ (যদিও ভিডিওর সত্যতা যাচাই করে নি খবর ২৪৭)। সেই ভিডিওর সূত্র ধরেই এক তৃণমূল কর্মীকে গ্রেফতার করল পুলিশ,। বিরোধীদের দাবী, লোকসভা ভোটের আগে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টির চেষ্টা চলছে।
কী ঘটেছে ঘটনাটি?
ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির তারকেশ্বরের নাইটা মাল পাহাড় পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের পিয়াসরা এলাকায়। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত ওই তৃণমূল কর্মীর নাম শেখ শামিম। চাঁপাডাঙা এলাকার বাসিন্দা। জানা গিয়েছে, গত সোমবার রাতে হোয়াটসঅ্যাপে একটি ভিডিও কল রেকর্ড করা হয়।
সেই ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, শেখ শামিম স্থানীয় তৃণমূল কার্যালয় থেকে ভিডিও কলে আক আত্মীয়ের সঙ্গে কথা বলছিলেন। সেই সময় তাঁকে বোমা মজুত রাখার কথা বলছিলেন তিনি। আগ্নেয়াস্ত্র মজুত এমনকি সেসবের দামও বলছিলেন ওই তৃণমূল কর্মী।
সেই রেকর্ডিং প্রকাশ্যে আসার পরই তদন্তে শুরু করে পুলিশ। গতকাল, মঙ্গলবার গ্রেফতার করা হয় শেখ শামিমকে। পিয়াসারা এলাকায় মজুত থাকা বোমার সন্ধান পায় পুলিশ। এদিন বিকেল চারটে নাগাদ এলাকায় তল্লাশি শুরু করে পুলিশ।
অনেক খোঁজার পর অবশেষে নাইটা মাল পাহাড় পুর গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীন একটি পরিত্যক্ত ঘর থেকে উদ্ধার হয় বোমা। সেগুলি ইতিমধ্যেই নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, মোট ১২টি বোমা উদ্ধার করা হয়েছে। এই ঘটনায় তল্লাশি জারি থাকবে বলে জানায় পুলিশ।
বিরোধীদের দাবী, ধৃত ওই তৃণমূল কর্মী শেখ শামিমের সঙ্গে যোগ রয়েছে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান শেখ মনিরুল ইসলামের। বিরোধীদের অভিযোগ, লোকসভা নির্বাচনের আগে এলাকায় অশান্তি করতেই এভাবে বোমা মজুত করে রাখা হয়েছে।
এই ঘটনায় সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপপ্রধান শেখ মনিরুল ইসলাম। তাঁর কথায়, পুলিশ উপযুক্ত তদন্ত করে ব্যবস্থা নিক। তাঁর দাবী, তিনি কোনও শেখ শামিমকে চেনেনই না। অন্যদিকে, তারকেশ্বরের বিধায়ক রামেন্দু সিংহ রায় জানান, এই বিষয়টি তাঁর জানা নেই। তবে তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।





