একদিন যাঁরা কলম ধরিয়ে পড়াতে শেখাতেন, আজ তাঁরাই রাজপথে। যাঁদের স্বপ্ন ছিল স্কুলের ব্ল্যাকবোর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ গড়ার, তাঁদেরই আজ জীবনযুদ্ধের পাঠ নিতে হচ্ছে আন্দোলনের ময়দানে। চোখে জল, বুকে ক্ষোভ, আর গলায় প্রতিবাদের সুর— এই নিয়েই আজ জীবন এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন চাকরিহারা শিক্ষকরা। শিক্ষক মানেই যাঁদের প্রতি একটা শ্রদ্ধার অনুভূতি জাগে, আজ তাঁদের বুকে পুলিশি লাঠির আঘাত, পেটে লাথির ক্ষত।
বাঙালির কাছে শিক্ষক মানে একজন পথপ্রদর্শক। ছোটবেলায় “গুরুবন্দনা” করতে করতে বড় হয়েছি আমরা। অথচ আজকের বাস্তবতা বড়ই নির্মম। SSC নিয়োগ দুর্নীতি কাণ্ডে চাকরি হারানো শত শত শিক্ষক-শিক্ষিকার জীবনটা বদলে গিয়েছে রাতারাতি। কেউ বাড়ি ফিরে শুনেছেন পরিবারের অভাবের কথা, কেউ আবার মনের দুঃখে দিন কাটাচ্ছেন পথে ঘাটে। কিন্তু যাঁরা অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করতে জানেন, তাঁরা তো আর হার মানেন না। তাই তো ফের উত্তাল কলকাতার রাজপথ।
সম্প্রতি কসবায় চাকরিহারা শিক্ষকদের প্রতিবাদ দেখাতে গিয়ে পুলিশের সঙ্গে তীব্র সংঘর্ষ বেঁধে যায়। অভিযোগ, পুলিশ নির্বিচারে লাঠিচার্জ করে আন্দোলনকারীদের উপরে। মহিলা শিক্ষক-শিক্ষিকাদের উপরেও চলে অমানবিক নির্যাতন। পুলিশের এই ব্যবহারে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা রাজ্য। যদিও পুলিশের দাবি, আন্দোলনকারীদের মধ্যে থেকে কেউ তাঁদের আক্রমণ করেছিল বলেই তারা ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়।
এই ঘটনার পরই আন্দোলনে নতুন মোড়। বুধবার রাতভর এসএসসি ভবনের সামনে বিক্ষোভে বসেন চাকরিহারা শিক্ষকরা। শুধু বিক্ষোভেই থেমে থাকেননি তাঁরা। বৃহস্পতিবার আরও বড় সিদ্ধান্তের পথে হাঁটলেন। এবার তাঁরা শুরু করলেন অনশন। সকাল ১১টা থেকে এসএসসি ভবনের সামনেই চলছে সেই অনশন। আন্দোলনকারীদের সাফ কথা, যোগ্য-অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশ করতে হবে। পরীক্ষার্থীদের ওএমআর (OMR) শিটের মিরর ইমেজ সামনে আনতে হবে।
আরও পড়ুনঃ Weather update : বৈশাখের আগে বাংলা জুড়ে স্বস্তির বৃষ্টির বার্তা! চৈত্রের তপ্ত দুপুরে কালবৈশাখীর চমক!
সবচেয়ে বড় কথা, তাঁদের দাবি যতক্ষণ না পূরণ হচ্ছে, ততক্ষণ আন্দোলন চলবে। আন্দোলনকারীদের দাবি, সত্যের লড়াই শেষ কথা বলবেই। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, রাজ্য সরকার কী পদক্ষেপ নেবে? অনশন দীর্ঘায়িত হলে শারীরিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন অনেকেই। তবুও তাঁরা লড়াই ছাড়বেন না বলে জানিয়েছেন। আন্দোলনের আঁচ যে আরও বাড়বে, তা স্পষ্ট। এখন দেখার, এই লড়াই কোথায় গিয়ে থামে।





