Mahua Moitra : নিজের দলের ভিতরেই কোণঠাসা মহুয়া! মমতার স্পষ্ট বার্তা — এবারও ভুল করলে সাসপেন্ড

রাজনীতি মানেই বিতর্ক, আর বিতর্ক মানেই মানুষের আগ্রহ তুঙ্গে। কখনও ভাষা, কখনও ব্যবহার, কখনও বা দলীয় শৃঙ্খলা — এসব নিয়েই রাজনীতিকদের নাম জড়ায় খবরের শিরোনামে। তবে রাজনীতির মঞ্চে যখন নিজের দলের ভিতরেই দ্বন্দ্ব বাধে, তখন সেই ঘটনা আরও বেশি নজর কাড়ে সাধারণ মানুষের। কারণ, বাইরের লড়াইয়ের থেকেও দলের ভিতরের লড়াই অনেক বেশি চর্চিত হয়। আর সম্প্রতি তেমনই এক ঘটনা ফের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এনে দিল তৃণমূলের বহুলচর্চিত সাংসদ মহুয়া মৈত্রকে।

একজন জনপ্রতিনিধির চরিত্র ঠিক কেমন হওয়া উচিত? শান্ত, সংযত, দায়িত্ববান — না কি তীক্ষ্ণ ভাষায় আক্রমণাত্মক? সাধারণ মানুষ কিন্তু এখনও সেই ‘ভদ্র, নম্র ও জনগণের প্রতিনিধি’র ছকেই রাজনীতিকদের দেখতে চান। অথচ বাস্তবে ছবিটা কতটা আলাদা তা আমরা প্রায়শই দেখে থাকি। আর মহুয়া মৈত্র নামটি তো এমনিতেই বিভিন্ন বিতর্কের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে রয়েছে। এবার আরও একবার নিজের ব্যবহারে বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে তিনি।

সূত্রের খবর, সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনে তৃণমূলের প্রতিনিধি দল পৌঁছয় একটি নির্দিষ্ট বিষয়ে অভিযোগ জানাতে। সেখানে উপস্থিত ছিলেন শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র। সেখানেই দু’জনের মধ্যে বচসা শুরু হয়ে যায়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, মহুয়া মৈত্র কর্তব্যরত বিএসএফ কর্মীকে নাকি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে গ্রেফতারের নির্দেশ দেন বলে দাবি। স্বাভাবিকভাবেই এই ঘটনা জানাজানি হতেই তীব্র প্রতিক্রিয়া শুরু হয় রাজনৈতিক মহলে।

আর এখান থেকেই শুরু হয় তৃণমূলের অন্দর মহলে নতুন বিতর্ক। সূত্রের খবর, দলের মধ্যে শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে চরম অসন্তুষ্ট তৃণমূল নেতৃত্ব। মহুয়ার আচরণকে দল মোটেই মেনে নিতে রাজি নয়। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের একাংশের দাবি, মহুয়ার এহেন মন্তব্য দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। তাই তাঁর বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ Ssc protest : আজ থেকে কলম ফেলে অনশনে শিক্ষকরা! পুলিশের মার খেয়ে আরও ক্ষুব্ধ চাকরিহারা শিক্ষকরা!

সবশেষে জানা গিয়েছে, মহুয়া মৈত্রকে ফোন করে কড়া বার্তা দিয়েছেন খোদ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের এক শীর্ষ নেতার মাধ্যমে এই বার্তা পৌঁছেছে মহুয়ার কাছে। মমতার স্পষ্ট নির্দেশ — “লাস্ট ওয়ার্নিং! আর একবার যদি এমন আচরণ হয়, তাহলে সরাসরি সাসপেন্ড করা হবে।” নির্বাচনের মুখে দলের মধ্যে এমন বিতর্ক একেবারেই চান না মমতা। ফলে মহুয়ার আগামী পদক্ষেপের দিকে এখন নজর সকলের। দলীয় শৃঙ্খলা মানবেন মহুয়া, নাকি ফের বিতর্কে জড়াবেন — সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles