‘দিদির অনুগামী’ ত্রিদিব এবার ‘দাদা’ শুভেন্দু’র সঙ্গে এক মঞ্চে! দলবদলের রাজনীতিতে গুঞ্জন তুঙ্গে

দিদি আর দাদাতে বিভক্ত তৃণমূল। বিধানসভা ভোট পূর্ববর্তী বাংলায় তৃণমূলের এখন সবচেয়ে বড় অসুবিধা দলীয় নেতাদের দলের বিরুদ্ধেই ক্ষোভ ও বিদ্রোহ। যা সামাল দিতে হাঁপিয়ে উঠেছে শীর্ষ নেতৃত্ব।

তৃণমূলের অন্যতম ভরসার জায়গা ও বলিষ্ঠতম নেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে তৃণমূলের বর্তমান সম্পর্ক অত্যন্ত নিম্নগামী। শুভেন্দু’র তৃণমূলকে বিদায় জানানো আর হয়তো হাতেগোনা কিছু দিনের ব্যাপার।
ইতিমধ্যেই মন্ত্রিত্ব থেকে ইস্তফা দিয়েছেন।
শুভেন্দু সমর্থনে মুখ খুলে দলের বিরাগভাজন হতে হয়েছে বেশ কয়েকজন নেতা বিধায়ককে। তাঁর অনুগামীদের বহিষ্কৃত করা হচ্ছে দল থেকে।
এই অবস্থায় এবার শুভেন্দুর সঙ্গে একসঙ্গে ক্যামেরাবন্দি হলেন ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায়। যিনি বিগত কয়েক বছর ধরে ‘দিদির অনুগামী’ বলেই খ্যাত।

গতকাল রবিবার হঠাৎই দিদির অনুগামী ধরা পড়লেন দাদার সঙ্গে। মেদিনীপুরের মহিষাদলে একটি অনুষ্ঠানে সস্ত্রীক হাজির হয়েছিলেন বইপ্রেমী ত্রিদিববাবু। যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শুভেন্দু অধিকারীও। এরপরই গুঞ্জন-জল্পনা শুরু হয়।
বর্তমান পরিস্থিতিতে যেখানে শুভেন্দুর দলত্যাগ কার্যত সময়ের অপেক্ষা, যিনি কিনা এদিনই বিধায়ক পদ থেকেও ইস্তফা দেবেন, সেখানে হঠাৎ তৃণমূল সুপ্রিমোর ‘কাছের মানুষ’ নেত্রীর ‘দূরের মানুষ’ শুভেন্দুর পাশে কি করছেন?
তবে কি তিনি এবার অন্য কিছু ভাবছেন?

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, বাম আমলে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যর অনুগামী ছিলেন ত্রিদিব চট্টোপাধ্যায়। রাজ্যে সরকার বদলের পরও প্রথমদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একাধিক বিষয়ে কটাক্ষ করতেন তিনি। তবে সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে নিজের ঘর গুছিয়ে শাসক শিবিরের দিকেই ঝোঁকেন ত্রিদিব বাবু। ঘাসফুলকে সমর্থন জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বিশ্বস্ত সৈনিক হয়ে উঠেছিলেন। ত্রিদিব এবং সুধাংশু দে- এই দু’জনই বইমেলার দায়িত্ব সামলাতেন। তাঁদের চোখ দিয়েই বইমেলার দিকে নজর রাখতেন মুখ্যমন্ত্রী। কিন্তু রবিবারের ঘটনার পর সেই রসায়ন অনেকটা পালটে যেতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ।

 

RELATED Articles