Illegal Arms Recovery: প্রাক্তন মাওবাদীর হাতে আবার বন্দুক! শাসকদলের নেতার বাড়ি থেকে উদ্ধার বিপজ্জনক অস্ত্রভাণ্ডার!

দিনের আলোয় যাঁকে এলাকার লোকজন একজন দায়িত্ববান রাজনৈতিক নেতা হিসেবে জানেন, রাত বাড়তেই সেই মানুষটি হঠাৎ যেন সম্পূর্ণ উল্টে যান—এমন অভিজ্ঞতা বহু পরিবারের মধ্যেই রয়েছে। বিশেষ করে কোনও প্রিয়জনের মৃত্যুর শোক যখন মনের গভীরে চেপে বসে, তখন অনেকেই মানসিক ভাবে ভেঙে পড়েন। সেই ভাঙন থেকে অনেক সময় জন্ম নেয় অদ্ভুত আচরণ। কেউ নিঃশব্দে ভোগেন, কেউ আবার নিজেদের চারপাশে অস্বাভাবিকতা ছড়ান। নদিয়ার থানের পাড়ার মানুষ রবিবার রাতে ঠিক এমন এক চিত্রের সাক্ষী থাকলেন।

রাজনীতির মঞ্চ থেকে শুরু করে প্রশাসনের চোখে যাঁরা ‘বিশ্বস্ত’ হিসেবে বিবেচিত হন, তাঁদের আচরণ যদি হঠাৎ বিভ্রান্তিকর হয়ে ওঠে—তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে অস্বস্তি থাকাটাই স্বাভাবিক। যাঁর নিরাপত্তার জন্য নিয়োজিত নিরাপত্তারক্ষী, তিনিই যদি তাঁর বন্দুকের নিশানা হয়ে ওঠেন, তবে প্রশ্ন তো উঠবেই। নদিয়ার থানের পাড়া এলাকায় ঠিক এমন এক ঘটনা ঘটে গিয়েছে, যা শুনে স্তম্ভিত সাধারণ মানুষ।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গোয়েন্দা খবরের ভিত্তিতে প্রাক্তন মাওবাদী ‘স্কোয়াড্রন লিডার’ এবং বর্তমানে করিমপুর ২ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি সেজাজুল হক শাহ মিঠুর প্রাণনাশের আশঙ্কা ছিল। সেই কারণে তাঁর সুরক্ষায় একজন সশস্ত্র পুলিশ কনস্টেবল জাহাঙ্গির আলমকে মোতায়েন করা হয়। রবিবার গভীর রাতে মিঠু শাহ মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। ঘুমোতে যাওয়া নিয়ে নিরাপত্তারক্ষীর সঙ্গে তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন তিনি। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে আচমকা একটি দেশি পিস্তল বার করে জাহাঙ্গিরকে লক্ষ্য করে গুলি চালান মিঠু। সৌভাগ্যবশত গুলি লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় প্রাণে বাঁচেন জাহাঙ্গির।

ঘটনার সময় মিঠু শাহের স্ত্রী ও নারায়ণপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মানোয়ারা শাহ চিৎকার শুনে ছুটে এসে নিরাপত্তারক্ষীকে নিজের ঘরে লুকিয়ে রাখেন এবং সঙ্গে সঙ্গে পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে রাতেই পুলিশ বাহিনী এসে তল্লাশি চালায় তৃণমূল নেতার বাড়িতে। সেই তল্লাশিতে উদ্ধার হয় একটি একনলা দেশি পিস্তল, দু’টি আধুনিক সেভেন ও নাইন এমএম পিস্তল, ৮ রাউন্ড তাজা কার্তুজ ও একটি গুলির খোল। এরপরেই মিঠু শাহকে গ্রেফতার করা হয়।

আরও পড়ুনঃ Mandarmani: ঘুরতে গিয়ে ধরা পড়ল দেহব্যবসার জাল! মন্দারমণিতে আবার মধুচক্র কাণ্ডে উত্তাল পর্যটন কেন্দ্র

সোমবার অভিযুক্তকে তেহট্ট মহাকুমা আদালতে পেশ করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা, বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র রাখা এবং অস্ত্র আইনের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলার সুপার অমরনাথ কে জানিয়েছেন, অভিযুক্ত শূন্যে গুলি চালিয়েছিলেন, তবে তদন্ত চলছে। তৃণমূল নেতৃত্ব যদিও মুখ খুলতে চাইছেন না, তবে বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছেন—কীভাবে এক প্রভাবশালী নেতার বাড়িতে বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র মজুত থাকে? তৃণমূল নেতার মানসিক অবস্থার অবনতি এবং অস্ত্র মজুদের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নদিয়াজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।

Jui Nag

আমি জুই নাগ, পেশায় নিউজ কপি রাইটার, লেখালেখিই আমার প্যাশন। বিনোদন, পলিটিক্স ও সাম্প্রতিক খবর পাঠকদের সামনে তুলে ধরাই আমার লক্ষ্য। তথ্যভিত্তিক ও আকর্ষণীয় কনটেন্টের মাধ্যমে সঠিক সংবাদ পৌঁছে দিই।

আরও পড়ুন

RELATED Articles