Kunal Ghosh : আদালতে আইনজীবীদের হেনস্থা, কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে রুল জারি! আদালতের প্রশ্ন– “নির্দেশ মানা হল না কেন?”

আইনের লড়াই শুধুই আদালতের ভেতরে সীমাবদ্ধ থাকে না, কখনও কখনও তা গড়িয়ে যায় আদালতের বাইরের চত্বরে। ঠিক যেমনটা ঘটল কলকাতা হাইকোর্টের সুপার নিউমারারি পোস্ট সংক্রান্ত মামলায়। বিচার দ্রুত হচ্ছে না—এই অভিযোগ তুলে ক্ষুব্ধ চাকরিপ্রার্থীদের একাংশ হঠাৎই বেছে নিল প্রতিবাদের এক ভয়ঙ্কর পথ। পথ যেখানে সম্মান খোয়ালেন বর্ষীয়ান আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য ও ফিরদৌস শামিম। তাঁদের বিরুদ্ধে হেনস্থার অভিযোগ উঠতেই নড়েচড়ে বসেছে গোটা আইনজগত।

যখন কোনও আইনজীবীর সম্মান নষ্ট হয়, তখন শুধু একজন মানুষের নয়, গোটা বিচারব্যবস্থারই অবমাননা হয়। সেই ঘটনার তীব্র প্রতিক্রিয়ায় মুখর হয় আইনজীবী মহল। অভিযোগ, প্রতিবাদে উত্তেজিত চাকরিপ্রার্থীদের একটি দল জুতো দেখিয়েছেন বিকাশরঞ্জনের দুই জুনিয়র আইনজীবীকে। এমনকি বিচারপতি বিশ্বজিৎ বসুর বিরুদ্ধেও অশালীন মন্তব্য ও স্লোগানের অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় প্রধান বিচারপতির কাছে অভিযোগ জমা পড়ে এবং তিনি নিজে উদ্যোগ নিয়ে মামলা গ্রহণ করেন। তখনই সিদ্ধান্ত হয়, তিন বিচারপতির একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে শুনানি হবে এই মামলার।

ঘটনার গুরুত্ব বুঝে তিন সদস্যের বিশেষ বেঞ্চ গঠন করেন প্রধান বিচারপতি টি এস শিবজ্ঞানম। সেই বেঞ্চে রয়েছেন বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিচারপতি সব্যসাচী ভট্টাচার্য ও বিচারপতি রাজর্ষি ভরদ্বাজ। এই বেঞ্চে উঠে আসে তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ-সহ আরও ৭ জনের নাম। আদালত জানতে চায়, কেন তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও কেউ সময়মতো রিপোর্ট পেশ করেননি। এর আগে অভিযুক্তদের কারণ দর্শাতে বলা হলেও কেউই সাড়া না দেওয়ায় ক্ষুব্ধ হন বিচারপতিরা। শুনানিতে হাজির ছিলেন কুণাল ঘোষও, তবে তিনিও উত্তর দেননি।

শুনানিতে কুণালের আইনজীবী জানান, সেদিন কুণাল ঘটনাস্থলে ছিলেন না, তিনি একটি ইলেকট্রনিক মিডিয়ার অনুষ্ঠানে গিয়েছিলেন। তবে বিচারপতিরা সেই যুক্তি মানতে রাজি হননি। আদালতের বক্তব্য, “২ মে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তারপরও কেউ মানল না কেন?” কুণালের আইনজীবী বলেন, “আস্থা আছে বিচারব্যবস্থার উপর, তবে কিছু সমস্যার কারণে হলফনামা দাখিল করতে দেরি হয়েছে।” কিন্তু বিচারপতি সাফ জানিয়ে দেন, আর সময় দেওয়া হবে না। তাঁরা শুধু রুলের উত্তর চান, কেউ জেলে যাচ্ছে না এখনই—এই বলেই তাঁদের বক্তব্যে ইতি টানেন।

আরও পড়ুনঃ Illegal Arms Recovery: প্রাক্তন মাওবাদীর হাতে আবার বন্দুক! শাসকদলের নেতার বাড়ি থেকে উদ্ধার বিপজ্জনক অস্ত্রভাণ্ডার!

সব শুনে ক্ষোভে ফেটে পড়ে আদালত। বিচারপতি বলেন, “রুল জারি না করলে কেউ গুরুত্ব দেয় না। আমরা তাই রুল ইস্যু করছি।” কুণাল ঘোষ-সহ ৮ জনের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আদালত অবমাননার মামলায় রুল জারি করে বিশেষ বেঞ্চ। নিগৃহীত আইনজীবীদের তরফে জানানো হয়, এই ঘটনার সঙ্গে কুণালের ‘লিঙ্ক’ রয়েছে। আদালতের ভাষায়, “এটা খুব সিরিয়াস বিষয়, নির্দেশ কেউ মানছে না, এটা মেনে নেওয়া যায় না।” এখন নজর রুলের উত্তরের দিকে, যেখানে ঠিক হবে অভিযুক্তদের পরবর্তী ভাগ্য।

 

RELATED Articles