কলকাতার আর.জি.কর হাসপাতালের (R.G.Kar Hospital) ঘটনায় উত্তাল সারাবাংলা। অন ডিউটি চিকিৎসকে কর্মক্ষেত্রেই ধর্ষণ এবং খুনের নৃশংস ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে গোটা রাজ্যবাসীকে। কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকদের নিরাপত্তাজনিত বিষয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠেছে। এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই এবার এমন একটি ঘটনা সামনে এল যা আরেকবার চিকিৎসকদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে সবার মনেই প্রশ্ন তুলতে বাধ্য করল।
আর.জি.কর কান্ডে নানান বিষয়েই তৃণমূল সরকারকে দায়ী করছেন সাধারণ মানুষ থেকে বিশিষ্টজনদের একাংশ। বিরোধীরাও এই সুযোগের সদ্ব্যবহার করে কোনঠাসা করেছে তৃণমূল সরকারকে। কিন্তু তৃণমূলের অস্বস্তি বেড়েই চলেছে আর এর জন্য তৃনমূলের দলের লোকেরাই পুরোপুরিভাবে দায়ী। সকালেই চুঁচুড়ার বিধায়কের ওপর এক মহিলা কর্মীকে কুপ্রস্তাব দেওয়ার খবর উঠে এসেছে। বেলা গড়াতে গড়াতে এবার তৃণমূল নেত্রীর চিকিৎসকে চাকরি খেয়ে নেওয়ার হুমকি দিয়ে গ্রেফতার হলেন।
বারুইপুর হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের এক চিকিৎসককে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠল এক যুবতীর বিরুদ্ধে। সেই যুবতী নিজেকে তৃণমূল নেত্রী বলে পরিচয় দেন। চিকিৎসকের চাকরি খেয়ে নেবেন বলে রীতিমত হুমকি দেন। তবে মুনমুন মোল্লা নামে ওই মহিলাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। রোগী ও তাদের পরিজনদের সামনে এই ঘটনা ঘটায় তারাও বেশ ক্ষিপ্ত হন ওই মহিলার ওপর। তারাই অভিযোগ জানান বারুইপুর থানায়।
নিজেকে তৃণমূল নেত্রী বলে দাবী করা ওই মহিলা জানান, তাদের বলা হয় ১০ জনের বেশি এক্স রে হবে না। অন্যদের লাইন রাকায় তাদের বাইরে যেতে বলা হয়। তাদের ১ টা নাগাদ ডেকে নেওয়া হবে বলে জানানো হয় কিন্তু পরে হাসপাতালের তরফ থেকে তাদের জানানো হয় যে আবার লাইন দিতে হবে। মহিলা আরো বলেন এরপর তাকে গরু ছাগল বলে সম্বোধন করা হয়। তিনি উত্তরে বলেন, “আপনার চাকরি কী করে থাকে দেখব! আপনি শিক্ষিত ডাক্তার হয়ে আমাদের বলছেন গরু ছাগল। আপনার চাকরি কী করে থাকে দেখব! আমি সব সিস্টেম জানি”। সেই চিকিৎসক আবার দাবী করেছেন, ওই মহিলা নাকি ফিটনেস সার্টিফিকেটের জন্য ওনাকে ক্রমাগত চাপ দিচ্ছিলেন। চিকিৎসকের আরও বলেন, ‘আপনি আমাদের সরকারের চাকরি করছেন। আপনার চাকরি খেয়ে নেব’ ঠিক এই ভাষাতেই ওই মহিলা হুমকি দেন।
আরও পড়ুনঃ
ঘটনার সময় উপস্থিত ছিলেন এমন এক রোগীর আত্মীয় জানান, “বারুইপুরে ভালো চিকিৎসা হচ্ছে। সেই ডাক্তারকে এসে হুমকি দিচ্ছেন ওই মহিলা। আমরা তার কঠোর শাস্তি চাই’। ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী আরেক রোগী জানান,’চিকিৎসক লাইন থাকা রোগীদের দেখছিলেন। এদিকে মেডিক্যাল করার জন্য ওই মহিলা কয়েকজনকে নিয়ে বেলাইন করেই চিকিৎসকের কাছে উপস্থিত হন। চিকিৎসক রাজি না হওয়ায় ওই মহিলা টেবিল চাপড়ে চিকিৎসককে তুই তাকারি করে চাকরি খেয়ে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছিলেন। কী সব পদের কথা বলে ক্ষমতা দেখাচ্ছিলেন তিনি”।





