পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগেই ভোট হয়ে গেল সিঙ্গুরে, নির্বাচনে জিততে এলাকার ‘কাছের মানুষ’কে বেছে নেওয়ার সিদ্ধান্ত তৃণমূলের

চলতি বছরেই পঞ্চায়েত নির্বাচন হবে ঘোষণা হলেও এখনও পর্যন্ত ভোটের দিনক্ষণ কিছুই ঘোষণা হয়নি। এমন অবস্থায় নানান রাজনৈতিক দলগুলিই নিজেদের মতো করে লড়াইয়ে নেমেছে। এরই মধ্যে নানান প্রান্ত থেকে উঠে আসা গোষ্ঠীকোন্দলের অভিযোগের জেরে বেশ অস্বস্তিতেই পড়েছে শাসক দল। এবার তাই দলের স্বচ্ছ ভাবমূর্তি ধরে রাখতে সিঙ্গুরে পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগেই হয়ে গেল এক দফা ভোট। পঞ্চায়েত ভোটের প্রার্থী বাছতেও ভোটাভুটি হল সিঙ্গুরে।

আসলে, সিঙ্গুর বিধানসভায় ১৬ টি পঞ্চায়েত ও হরিপাল বিধানসভায় মোট ১৫ টি পঞ্চায়েত রয়েছে। জানা গিয়েছেম মোট ৩১ টি পঞ্চায়েত এলাকার প্রার্থী তালিকা তৈরির জন্য একটি সম্প্রতি বৈঠকে করেন রাজ্যের মন্ত্রী বেচারাম মান্না। প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।

সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই বৈঠকেই স্থির হয় যে সমস্ত তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ ভালো, এলাকায় যাদের জনপ্রিয়তা রয়েছে, তাদেরই ভোটের টিকিট দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে দলের উপর মহল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেও বাছাই করবেন দলের কর্মীরাই। এর জন্য ভোটাভুটি হবে। এই বৈঠকে স্থির হয় যে বুথ সদস্যরা ব্যালটের মাধ্যমে নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী তিনজন প্রার্থীর নাম লিখে ‘ব্যালট’ বক্সে জমা দেবেন।

এই ভোটাভুটি হয় গতকাল, শনিবার। সিঙ্গুরের ১৬টি পঞ্চায়েতে ২৭৮টি বুথে শনিবার সমস্ত বুথ সদস্যদের তাদের তিনজন পছন্দের প্রার্থীর নাম লিখে বক্সে জমা দেন। এই ভোটাভুটির ফল দলের উপর মহলে পাঠিয়ে দেওয়া হবে। তৃণমূল কর্মীদের মতে, এই ভোটের মাধ্যমে জেতার রাস্তা যেমন সহজ হবে, তেমনই মানুষের কাছে তাদেরই কাছের মানুষকে পৌঁছে দেওয়াও সম্ভব হবে। 

এই ভোটের বিষয়ে এলাকার এক তৃণমূল কর্মী বলেন, “যিনি নিয়মটি বের করেছেন আমি তাঁকে স্যালুট জানাচ্ছি। স্বচ্ছ ভাবমূর্তির একজন কর্মী থেকে একজনকে নেতা বানানোর সবথেকে ভাল পদ্ধতি এটাই। আমার মনে হয় এই নয়া সিস্টেমের জন্য সমস্ত জায়গাতেই ভাল প্রার্থী পঞ্চায়েত ভোটের সময় আমরা পাব। এরফলে গোষ্ঠী কোন্দলও অনেকটাই কমবে। যাঁরা দলের কথা না ভেবে নিজের সুবিধার জন্য দল করতেন তাঁরা এবার বেকায়দায় পড়বেন”।

তবে এই কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপি। বিজেপির যুব মোর্চার মন্ডল সভাপতি সৌমিত্র পাকিরা বলেন, “তৃণমূলে কোনও গণতন্ত্র নেই। প্রতিটা নির্বাচনে এরা মানুষের কণ্ঠরোধ করেছে। এখন দলকে শুদ্ধিকরণ করতে নানা কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু, আদৌও কী আম-জাম-কাঁঠাল গাছকে বন্ধ করা যাবে? কারণ এই দলে একটাই পোস্ট বাকি সব ল্যাম্পপোস্ট। এখন আবার ল্যাম্পপোস্টটা এখন পোস্ট হওয়ার চেষ্টা করছে। তাই এই সব ভোটাভুটি করে কোনও লাভ হবে না। ভোটের সময় দ্বিতীয়, তৃতীয় স্থানে তৃণমূলের লোকেরা ফের আম পাতা, বট গাছ নানা চিহ্ন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। আবার গোষ্ঠী কোন্দলের ছবি দেখতে পাওয়া যাবে”।

এর পাল্টা দিয়ে তৃণমূল ব্লক সভাপতি গোবিন্দ ধারা বলেন, “বিজেপি বুথে বুথে প্রার্থী পাচ্ছে না। তাই এ কথা বলছে। আমরা বুথে বুথে আমাদের দলের স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য ভোট করাচ্ছে। স্বচ্ছ প্রার্থী দিতেই বুথে বুথে কর্মীদের নিয়ে বসে প্রার্থী বাছাই করছি। এ ক্ষেত্রে প্রবীনের কয়েকজনকে সামনে রেখে বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নবীনদের অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে”।

RELATED Articles