একে তো ঘূর্ণিঝড়, তার উপর আবার জোড়া। যাকে বলে ‘মরার উপর খাঁড়ার ঘা’। ঘোর অশনি সংকেতের জেরে কাঁপছে বাংলা। নিরক্ষরেখার ঠিক দু’পাশেই তৈরি হয়েছে দুই ঘূর্ণিঝড়ের পরিস্থিতি। একটি বঙ্গোপসাগরে আর অন্যটি ভারত মহাসাগরে। এর আগেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বটে!
কিন্তু কেন এমনটা হল? হাওয়া অফিস বলছে, এর নেপথ্যে রয়েছে পশ্চিমী বাতাসের বিস্ফোরণ। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ পার্থ মুখোপাধ্যায় জানান, “এমন পরিস্থিতি খুব একটা দেখা যায় না। কিন্তু ট্রপিক্যাল ইন্ডিয়ান ওশান, শূন্য ডিগ্রির আশেপাশে পশ্চিমী বাতাসের বিস্ফোরণ তৈরি হওয়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ২০২০ সালেও জোড়া ঘূর্ণিঝড়ের উৎপত্তি হয়েছিল। এবারও পূর্বাভাস তেমনই”।
আবহবিদদের মতে, দুটো ঘূর্ণিঝড় একসঙ্গে তৈরি হওয়া মানেই তাদের একে অন্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতা। কে কতটা আর্দ্রতা টানবে, তা নিয়ে একটা রেষারেষি চলে। আমফান বা ফণীর সময় বাংলায় একটাই ঘূর্ণিঝড়ের ছবি দেখা গিয়েছিল, কিন্তু এবার তেমনটা হবে না।
আসলে, বর্ষার আগে মে মাসে সাগরে ঘূর্ণিঝড় তৈরি হওয়ার একটা প্রবণতা তৈরি হয়। ইতিমধ্যেই আন্দামান সাগরের উপর একটি ঘূর্ণাবর্তের সৃষ্টি হয়েছে। আগামী ৭ই মে সন্ধ্যায় তা গভীর নিম্নচাপে পরিণত হবে। রবিবার তা ঘূর্ণিঝড়ের রূপ নিতে পারে বলে জানাচ্ছেন আবহবিদরা। উপকূলের জেলাগুলিতে ইতিমধ্যেই প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়ে গিয়েছে।
হাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মে থে জুনের মাঝের এই সময়টা যতদিন না বর্ষা নামছে, সেই সময় ঘূর্ণিঝড়ের আশঙ্কা থাকেই। ২০০৯ সালে আয়লা এসেছিল ২৫শে মে। আবার ২০১৯ সালে ফণী না ২০২১ সালের যশ, সবই এসেছে মে মাসেই। আর ২০২০ সালের ২০শে মে আমফানের অভিজ্ঞতা এখনও মুছে যায়নি বঙ্গবাসীর মন থেকে।
এই কারণে এখন থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া শুরু হয়েছে নানান জায়গায়। পশ্চিমবঙ্গের উপকূলীয় এলাকায় বিপর্যয় মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগণা, হাওড়া, হুগলীতে জারি হয়েছে সতর্কতা। বিদ্যুৎ দফতরের তরফেও শুরু হয়েছে নজরদারি।





