কিছুমাস আগেই কালিয়াগঞ্জে দেখা গিয়েছিল অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে ব্যাগে ভরেই সন্তানের দেহ নিয়ে যাচ্ছিলেন অসহায় বাবা। এবারও তেমনই এক দৃশ্যের দেখা মিলল। অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে মুমূর্ষু রোগীকে খাটিয়াতে শুইয়ে খাটিয়ায় দড়ি বেঁধে কাঁধে করে নিয়েই রোগীকে হাসপাতালে গেলেন পরিবারের লোকজন। ভয়ঙ্কর এই ছবি সামনে আসতেই শোরগোল পড়েছে প্রশাসনিক মহলে।
কী ঘটেছে ঘটনাটি?
এই ঘটনাটি ঘটেছে মালদহের বামনগোলা থানা এলাকার গোবিন্দপুর- মহেশপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মালডাঙা গ্রামে। জানা গিয়েছে, ওই গ্রামেরই বাসিন্দা হলেন মামনি রায়। কিছু বছর আগে ওই গ্রামের বাসিন্দা কার্তিক রায়ের সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। একটি ২ বছরের সন্তান রয়েছে তাদের। বেশ কিছুদিন ধরেই জ্বরে ভুগছিলেন ওই গৃহবধূ। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন পরিবারের লোকেরা।
কিন্তু মেলেনি অ্যাম্বুলেন্স। এমনকি কোনও টোটোও পাওয়া যায়নি। গ্রামের রাস্তার অবস্থা খুবই খারাপ। শেষ পর্যন্ত উপায় না পেয়ে খাটিয়াতে রোগীকে শুইয়ে খাটিয়াতে দড়ি দিয়ে বেঁধে কাঁধে করেই রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যান পরিবারের লোকজন। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। পথেই মৃত্যু হয় ওই গৃহবধূর।
মামনির পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই খারাপ মালডাঙার রাস্তা। বারবার সংস্কারের দাবী জানানো হলেও কোনও লাভ হয়নি। পথ অবরোধ, বিক্ষোভ, প্রশাসনিক আধিকারিকদের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে, কিন্তু কাজ করেনি প্রশাসন। সেই কারণে এই রাস্তায় অ্যাম্বুল্যান্স পাওয়া যায়নি। তাই বাধ্য হয়েই শুক্রবার মামনিকে খাটিয়ায় শুইয়ে দড়ি বেঁধে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন পরিবারের লোকজন। কিন্তু মুর্মুর্ষু স্ত্রীকে নিয়ে বেরোনোর পর পথেই মৃত্যু হয় মামনির।
এই ঘটনায় তৃণমূলের বিরুদ্ধে সুর চড়ান এলাকার বিজেপির উত্তর মালদার সহ সভাপতি তথা প্রাক্তন জেলা পরিষদ সদস্য বীণা কীর্তনীয়া। তিনি বলেন, “এই বুথে রাস্তার জন্য আগেও আন্দোলন করেছেন এলাকার লোকজন। বিডিও কথা দিয়েছিলেন শীঘ্রই রাস্তা করে দেওয়া হবে। কিন্তু, হয়নি। আজকে আমাদের রাজ্য সরকার পথশ্রী করে বেড়াচ্ছে। কিন্তু, যদি সত্যিকারের কাজ হত তাহলে এই ১৯ বছরের তরুণীটির প্রাণ অকালে ঝরে যেত না। যে ছবি দেখা যাচ্ছে এ তো পুরো মধ্য়যুগীয় বর্বরতার সামিল। আজকের দিনেও এভাবে কাউকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হবে এটা তো ভাবতেই পারা যায় না। আমাদের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী কী করছেন? কেন্দ্র থেকে টাকা দেওয়া হচ্ছে, কিন্তু তা নয়ছয় করা হচ্ছে”।





