সন্তানদের বি’ষ খাইয়ে স্ত্রী-সহ আত্মহত্যার চেষ্টা স্বামীর, স্বামী-স্ত্রী বাঁচলেও মৃ’ত্যু দুই খুদের, পারিবারিক অশান্তি নাকি অর্থনৈতিক অনটন, কী কারণ?

দুই সন্তানকে নিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন এক দম্পতি। দুদিন আগেই স্বরূপনগরের দুই কন্যা সন্তান সহ বাড়ির মধ্যে এক মহিলার দেহ উদ্ধার হয়। সেই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার দুই সন্তানকে নিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা অভিযোগ উঠল এক দম্পতির বিরুদ্ধে। ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে এলাকায়। বসিরহাট মহকুমার স্বরূপনগর থানা এলাকায় শুগুনা গ্রাম পঞ্চায়েত। ওই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার কাচদাহ গ্রামের বাসিন্দা উত্তম দাস। ওই এলাকাতেই স্ত্রী কনিকা ও দশ বছরের ছেলে এবং সাত বছরের মেয়েকে নিয়ে থাকতেন ওই ব্যক্তি।

স্থানীয় সূত্রে খবর, মঙ্গলবার গভীর রাতে বাড়ি ফিরেছিলেন উত্তম দাস। রাতে পরিবারের সঙ্গে একসঙ্গে বসে খাওয়া-দাওয়া করেছিলেন তিনি। সেই সময়ই নাকি ভাতের সঙ্গে বিষ মিশিয়ে দিয়েছিলেন উত্তম। ভোরের দিকে উত্তমের শব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয় বাড়ি খুলে দেখে দশ বছরের ছেলে, সাত বছরের মেয়ে নিথর হয়ে পড়ে আছে। উত্তম দাস এবং তার স্ত্রী কণিকা তখনও জীবিত। সঙ্গে সঙ্গে এই দুজনকে বারাসাত হাসপাতাল নিয়ে যান প্রতিবেশীরা। কণিকাকে বারাসাত হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তবে উত্তমকে হাবড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এই দুই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন তারা। ‌

ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে স্বরূপনগর থানার পুলিশ। পারিবারিক অশান্তি নাকি অর্থনৈতিক সংকট কি কারনে উত্তম এই পদ বেছে নিয়েছিলেন তা খুঁজে বের করতে চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ আধিকারিকরা।‌ ইতিমধ্যে মৃত দুই সন্তানের মৃতদেহ ময়নতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তাদের ময়না তদন্তের জন্য বসিরহাট স্বাস্থ্য জেলার পুলিশ মর্গে পাঠানো হয়েছে দেহ। তদন্তকারীদের অনুমানড় খাবারে বিষ মিশিয়ে তিনি স্ত্রীর সন্তানদের খাইয়ে দেন, তারপরে নিজেও খান সে বিষাক্ত খাবার। বিষ খেয়েই শরীর খারাপ হতে শুরু করে সকলের। প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ঢোকেন। উত্তম ও কণিকা আশঙ্কাজনক অবস্থায় ভর্তি হাসপাতালে।

এই ঘটনায় কান্নায় ভেঙে পড়েছেন বৃদ্ধা রঞ্জিতা। তিনি বলেন, “অতিরিক্ত মদ খেত ছেলে। সব টাকা উড়িয়ে দিত। ভবিষ্যতে নাতি-নাতনিদের কথা ভেবে বাড়িটা রাখতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ছেলে তাও মেনে নিতে চাইত না। এই নিয়ে অশান্তি। সে জন্য যে এমন কাণ্ড ঘটাবে, তা বুঝতে পারিনি।”

RELATED Articles