ডেল্টা-সহ করোনার নানান ভ্যারিয়েন্ট কিন্তু ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে উঠছে। ইতিমধ্যেই আমেরিকার নানান প্রদেশে তা থাবা বসাতে শুরু করে দিয়েছে। গোটা বিশ্বেই তার তাণ্ডব শুরু হল বলে। এই পরিস্থিতি থেকে বাঁচার উপায় টিকাকরণ।
দেখা যাচ্ছে যারা টিকার সম্পূর্ণ ডোজ নিয়েছেন তাদের তুলনায় যারা একেবারেই টিকা নেন নি তাদের সংক্রমিত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনা অনেক গুণ বেশি। তাদের সংক্রমণের আশঙ্কা বেড়ে যায় প্রায় চার গুণ ও হাসপাতালে ভর্তির আশঙ্কা বেড়ে যায় প্রায় ১০ গুণ।
গত শুক্রবার এমনই তথ্য দিল আমেরিকার সেন্টার্স ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন বা সিডিসি। এই রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ১০ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমেরিকার মোট জনসংখ্যার ৫৪.২ শতাংশকে করোনার টিকা সম্পূর্ণ ডোজ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই টিকাকরণের দিক দিয়ে অনেকটাই পিছিয়ে পশ্চিমবঙ্গ।
রাজ্য স্বাস্থ্য দফতরের পরিসংখ্যান অনুযায়ী,, গত ১লা এপ্রিল থেকে এখনও পর্যন্ত এই সাড়ে ৫ মাসে পশ্চিমবঙ্গে করোনার টিকার দুটি ডোজই পেয়েছেন মাত্র ১ কোটি ৩৪ লক্ষ ২৩ হাজার ৫৩৮ জন। এর অর্থ, রাজ্যের যত জন নাগরিকের সম্পূর্ণ টিকা পাওয়ার কথা, তাঁদের মধ্যে মাত্র ১৯.১ শতাংশক করোনার টিকার দুটি ডোজ পেয়েছেন। আর টিকার একটি ডোজ দেওয়া হয়েছে ৩ কোটি ৩৭ লক্ষ ৫২ হাজার ৭৪৬ জনকে। কিন্তু এই টিকা পাওয়ার কথা তাঁদের ৪৮.১ শতাংশ। এরই মধ্যে খবর মিলেছে যে রাজ্যে কো-ভ্যাক্সিন টিকা দেওয়া আপাতত বন্ধ রয়েছে। কো-ভ্যাক্সিনের ভাঁড়ার শূন্য থাকা এখন বেশ কিছুদিন কলকাতায় মিলবে না এই টিকা। এর জেরে পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার সম্ভাবনা।
গত শুক্রবার প্রকাশিত সিডিসি-র রিপোর্ট অনুযায়ী, একটি ডোজের টিকা (যেগুলি দু’টি ডোজের, যেমন কোভিশিল্ড ও কো-ভ্যাক্সিন) নেওয়া হলেও করোনা সংক্রমণ কিন্তু ততটা কমাতে পারছে না। সেই আশঙ্কা তখনই কমছে, যখন টিকার দু’টি ডোজই পুরোপুরি নেওয়া হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের বক্তব্য, কলকাতা-সহ গোটা পশ্চিমবঙ্গে কিন্তু এই ছবিটা বেশ উদ্বেগজনক। কারণ, ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট রুখতে এমআরএনএ করোনা টিকা (মডার্না ও ফাইজারের) অনেক বেশি পারদর্শী, কিন্তু তা এখনও রাজ্যে দেওয়া শুরু হয়নি।
গত এপ্রিল থেকে আগস্ট পর্যন্ত আমেরিকার ১৩টি প্রদেশে ৬ লক্ষেরও বেশি মানুষের উপর চালানো এই সমীক্ষায় সিডিসি এও দেখেছে, আমেরিকায় যে করোনার টিকাগুলি এখন দেওয়া হচ্ছে, ডেল্টা প্রতিরোধে সেগুলির কার্যকারিতা গত এপ্রিল থেকে অগস্টে অনেকটাই কমে গিয়েছে। এপ্রিলে টিকাগুলির কার্যকারিতা আগে ছিল ৯১ শতাংশ। কিন্তু সেটা আগস্টে কমে দাঁড়িয়েছে ৭৮ শতাংশে। ডেল্টা প্রতিরোধে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে করোনা টিকার কার্যকারিতা কমে যাওয়ার ফলে টিকা নেওয়ার পরও ফের সংক্রমিত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হতে হচ্ছে অনেককেই। এমনকি, তাঁদের একাংশের মৃত্যুও হয়েছে বলে খবর।
বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই পরিসংখ্যানের ফলে এই রাজ্যের মানুষের টিকা নেওয়ার পরও করোনায় আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে। আশঙ্কা আরও প্রবল কারণ, এখনও পর্যন্ত রাজ্যের মাত্র ১৯.১ শতাংশ মানুষ টিকার দু’টি ডোজ পেয়েছেন।a






