পাশেই ঝাঁ চকচকে নিউটাউন। বড় বড় সব বিল্ডিং, সুন্দর রাস্তা, রাস্তার দু’দিকে গাছ। রাস্তায় ঝলমলে আলো। উৎসবের সময় সেই আলো দেখলে চোখ ধাঁধিয়ে যায় বৈ কী! কিন্তু ওই যে কথায় বলে না, ‘প্রদীপের তলাতেই অন্ধকার’। এই নিউটাউনের ঠিক পাশের গ্রামের মানুষই এখনও পর্যন্ত তাদের গ্রামে বিদ্যুৎ দেখেন নি। নেই ভালো রাস্তা, জলের ব্যবস্থা। এভাবেই দিন কাটাচ্ছেন গ্রামবাসীরা।
কোথায় রয়েছে এই গ্রাম?
এই এলাকার নাম পুকুরহাট। এই গ্রাম রয়েছে ভাঙড় ২ ব্লকের আওতাধীন বেঁওতা ২ গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার হাঁনাখালি অঞ্চলের মধ্যে। নিউটাউনের ঠিক পাশে অবস্থিত হলেও জল, বিদ্যুৎ, রাস্তার দিক থেকে এখনও এগোতেই পারে নি এই পুকুরহাট। কলকাতা থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে কিন্তু তাও থেমেই রয়েছে এই গ্রামের বাসিন্দাদের জীবন। গ্রামে নেই পাকাবাড়ি। একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় কাদা ভরে যায়। গ্রামের চারিপাশে রয়েছে মাছের ভেড়ি।
এই হাঁনাখালি এলাকায় প্রায় ৪৪টি পরিবার থাকে। ২০০ থেকে ২৫০ জন ভোটার রয়েছে এই গ্রামে। এলাকাবাসীদের অভিযোগ, ভোটের সময় নেতারা এই গ্রাম পরিদর্শনে আসেন। বড় বড় প্রতিশ্রুতি করেন তারা। কিন্তু ভোট চলে যেতেই ফের তারা যে তিমির সেই তিমিরেই। স্বাধীনতার ৭৬ বছর পরও এখনও গ্রামে আলো দেখে নি গ্রামবাসীরা।
গ্রামবাসীরা জানান, বৃষ্টির সময় চলাফেরার জন্য গামবুট ব্যবহার করেন গ্রামবাসীরা। বিদ্যুৎ নেই তাই সন্ধ্যে হলেই অন্ধকারে ঢেকে যায় গ্রামের রাস্তা। নিউটাউনের এত কাছে থেকেও তাদের জীবনে কোনও উন্নতি ঘটেনি।
কেন কোনও উন্নতি হয়নি এই গ্রামের?
তৃণমূল নেতাদের উপর ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন গ্রামবাসীরা। তৃণমূলের একশ্রেণির নেতারা আবার ঘর দেওয়ার নাম করে টাকা নিয়েছে বলেও অভিযোগ। এখনও কেউ ঘর না পাওয়ায় বেঁওতা ২ গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান শেখ সাবির আলিকে ঘিরে ধরে বিক্ষোভ দেখান এলাকার মহিলারা।
দ্রুত সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, “গ্রামবাসী সবাই এসেছিলেন। অবস্থা দেখে আমার নিজেরই কষ্ট হচ্ছে। আমি দ্রুত শওকল মোল্লাকে বলব বিষয়টি দেখতে”। এক গ্রামবাসী বলেন, “এখানে কোনও সময় প্রধান আসে না। কল, রাস্তা, বিদ্যুত, আপনারা খবর করতে অন্তত পা দিয়েছে। তার জন্য ধন্যবাদ”।





