তৃণমূলের স্বজনপোষণ! আবাস যোজনায় ঘরহারারাই পাচ্ছেন না ঘর, পঞ্চায়েত ভোট বয়কটের হুঁশিয়ারি এলাকাবাসীদের

বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা নিয়ে রাজ্যে একের পর এক অভিযোগ আসছে। রাজ্যের নানান প্রান্ত থেকে অভিযোগ আসছে যে নানান তৃণমূল নেতা বা তাদের স্ত্রী বা তৃণমূল ঘনিষ্ঠ লোকজন যাদের নিজস্ব ভালো বাড়ি রয়েছে, তাদের নাম উঠেছে আবাস যোজনার তালিকায়। অথচ, যারা সত্যিই ঘরহারা, নেই পাকাবাড়ি বাড়ির ভগ্নপ্রায় অবস্থা, তারাই ঘর পাচ্ছেন না। ফের এমন অভিযোগ উঠে এল হুগলীর পান্ডুয়ার জায়ের দ্বারবাসিনী গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে।

এই গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দাদের দাবী, তাদের এলাকার কোনও বাসিন্দাদের নাম আবাস যোজনার তালিকায় নেই। সমীক্ষা পর্যন্ত করা হয়নি বলে অভিযোগ। সেই কারণে গতকাল, মঙ্গলবার পঞ্চায়েত অফিসের সামনে বিক্ষোভ দেখান তারা। হুঁশিয়ারি দেন যে আবাস যোজনায় যদি তারা ঘর না পান, তাহলে তারা পঞ্চায়েত ভোট বয়কট করবেন।

এই গ্রামে দিনমজুর শ্রেণীর মানুষজনদের বাস মূলত। কিন্তু তাদের নাম কেন আবাস যোজনার তালিকায় নেই, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা। গ্রামবাসীদের কথায়, “আমরা ঘর পাইনি। তাই পঞ্চায়েতে বিক্ষোভ দেখাচ্ছি। পঞ্চায়েতে এসে আমরা আবেদন জানিয়েছি কেন আমরা ঘর পাব না? আমাদের ঘর থেকে জল পড়ে বর্ষাকালে। বৃষ্টির সময় থাকতে পারি না। তবুও আমাদের ঘর দেওয়া হয়নি”।

এই বিষয়ে বিজেপি হুগলি সাংগঠনিক জেলার সাধারণ সম্পাদক সুরেশ সাউ বলেন, “গ্রামবাসীদের ক্ষোভ থাকাটাই স্বাভাবিক। গরিব মানুষের জন্যই কেন্দ্রীয় সরকারের এই প্রকল্প। অথচ তাদেরই ঘর দেওয়া হচ্ছে না। তৃণমূলের স্বজনপোষণের জন্যই প্রকৃত উপভোক্তারা বাদ পড়ছেন”।

জায়ের দ্বারবাসিনী পঞ্চায়েতের উপপ্রধান নিখিল দাস বলেন, “আগে যখন তালিকার জন্য সমীক্ষা হয়েছিল তখন এই গ্রামের বাসিন্দারা তা করতে দেয়নি। তাঁদের দাবি ছিল ঘর দিলে সবাইকে দিতে হবে। কিন্তু সেটা তো একবারে সম্ভব না। সরকার যেভাবে বলবে সেই ভাবেই কাজ হবে। আমরাও চাই গরিব মানুষ যেন ঘর পায়”।

তিনি আরও বলেন, “ঘর পাওয়ার যোগ্য এখনো অনেক মানুষ আছে। তবে সেটা ধীরে ধীরে হবে। যে বা যাওয়ার পাওয়ার যোগ্য তাকেই দেওয়া হোক। আবার নতুন করে যখন ঘরের সমীক্ষা হবে তখনই এটা সম্ভব”।

RELATED Articles