বিশ্বভারতীতে বেআইনিভাবে জমি দখল করে রাখার তালিকায় নোবেলজয়ী বামপন্থী অমর্ত্য সেনের নাম, তালিকাভুক্তদের উৎখাত করার সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের

সম্প্রতি বিশ্বভারতীতে বেআইনিভাবে জমি দখল করে রাখার একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে। এই তালিকাতেই নাম উঠল নোবেলজয়ী বামপন্থী অমর্ত্য সেনের। রিপোর্ট অনুযায়ী, রাজ্য সরকারকে একটি চিঠি লিখে বিশ্বভারতীর কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো হয়েছে  যে সেই এলাকায় এমন কিছু জমি রয়েছে যা কিছু মানুষ নিজের সম্পত্তি বানয়ে ফেলেছে। এঁদের মধ্যে নাম রয়েছে অমর্ত্য সেনের।

এই সমস্ত জমি যা বেআইনিভাবে কিছু মানুষ দখল করেছন, তার মধ্যে রয়েছে মেয়েদের হস্টেল, অ্যাকাডেমিক ডিপার্টমেন্ট, অফিস, উপাচার্যের বাংলো। বলা হয়েছে, যে কিছু জমি ভুলবশত আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়, যেখানে তারা নিজেদের ইচ্ছামতো রেস্তোরাঁ, স্কুল ও অন্যান্য ব্যবসা করেছেন।

জানা গিয়েছে, এই এলাকাতেই অমর্ত্য সেনের পৈতৃক জমি রয়েছে  ১২৫ ডেসিম্যাল। এই জমির পাশে আরও ১৩ ডেসিম্যাল জমি বেআইনিভাবে দখল করেছেন অমর্ত্য সেন। এই বিষয়ে একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে অমর্ত্য সেন জানান, “আমি যা বুঝতেপারছি বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বিদ্যুৎ চক্রবর্তী কিছু মানুষের নাম তালিকাভুক্ত করেছেন, যারা যসেই অঞ্চলে বেআইনিভাবে জমি দখল করে রয়েছেন। কিন্ত আমার বাড়ি যে জমির উপর রয়েছে, তা দীর্ঘদিন ধরে লিজে নেওয়া রয়েছে এবং তার মেয়াদ এখনও সম্পূর্ণ হয়নি”।

এই  বিষয়ে কেন্দ্র সরকারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, “বিশ্বভারতীর উপাচার্য এখন কেন্দ্র সরকারের দ্বারা চালিত হচ্ছেন। সেখান থেকেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে আমাকে উৎখাত করার জন্য এবং তিনিও সেই মতোই কাজ করছেন”। একটি রিপোর্টে দেখা গিয়েছে যে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য যে জমি ঠিক করেছিলেন, সেই জমিতে এখন বিশ্বভারতী ও আশ্রমের মানুষ বসবাস করেন। এই জমিতে অন্য কারোর আইনত অধিকার নেই। কিন্তু ১৯৮০ ও ১৯৯০ দশকে কাগজপত্রের কোনও গাফিলতির কারণে কিছু জমি হস্তান্তরিত হয়ে যায় এবং সেই জমিতেই বেআইনিভাবে কিছু মানুষ দখল করে রেখেছেন। জানা গিয়েছে যে, বিশ্বভারতীর তরফ থেকে সেইসমস্ত কাগজপত্র শিক্ষা মন্ত্রী ও কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল অফ ইন্ডিয়াকে পাঠানো হয়েছে।

এও জানা গিয়েছে যে, ২০০৬ সালে অমর্ত্য সেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে অনুরোধ করেন যে তাঁর ৯৯ বছর পুরনো যে বাড়িটি লিজে নেওয়া আছে, তা যেন তাঁর নামে করে দেওয়া হয়। কিন্তু বাকী যে জমি ছিল তা তিনি আর পরবর্তীকালে বিশ্ববিদ্যালয়কে ফেরত করেননি।

RELATED Articles