এ যে ‘উল্টা বুঝলি রাম’ গল্প হয়ে গেল। বলা হয়েছিল, অত্যাবশ্যকীয় পণ্য যেমন মুদিখানার দোকান, ফল-সবজি-দুধের দোকান লকডাউনে ছাড় পাবে। অথচ গতকাল রাজ্য জুড়ে পুলিশি অত্যাচারের যা ছবি-ভিডিও মিলল, তাতে দেখা গেল এইসকল দোকানিদের ধরে ধরে মারছে খাঁকি উর্দিধারীরা। ভেঙে দিচ্ছে দোকানপাট, রাস্তায় ছুড়ে ফেলছে কাঁচা আনাজ সেইসঙ্গে মুখে অশ্রাব্য গালিগালাজ। সাধারণ মানুষ বাজার নিয়ে ফেরার সময় মার খাচ্ছেন পুলিশের হাতে! ‘বাঁশের চেয়ে কঞ্চির দর বেশি’ প্রবাদকে সত্যি করে পুলিশের থেকে বেশি লাঠিচার্জ করছে সিভিক পুলিশরা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় দিনভর ঘুরেফিরে বেরিয়েছে এরকম অনেক ভিডিও ও ছবি। পুলিশের এই অমানবিক নির্যাতনের ছবি দেখে শিউরে উঠেছেন নেটিজেনরা। এছাড়াও দেখা যায় পুলিশকে বাড়িতে ঢুকে ঢুকে লাঠিচার্জ করতে। যেখানে প্রথম থেকেই রাজ্য সরকার ও পরে কেন্দ্রীয় সরকার অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের দোকান খোলা রাখার নির্দেশ দিয়েছে সেখানে রক্ষকের এই ভক্ষক আচরণ দেখে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ।
যারা বাজার করে ফিরছেন, তাঁদেরও লাঠিচার্জ করছে সিভিক পুলিশ। একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, এক তরুণী সাইকেল চালিয়ে আসছিলেন বাজার নিয়ে, তাঁকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে প্রকাশ্যে লাঠিচার্জ করেন এক মহিলা সিভিক পুলিশ এবং বলতে থাকেন, “বাড়িতে ছেলে নেই?” তরুণী জানান, “না নেই, আপনি গিয়ে দেখবেন চলুন”, তখন আরও জোরে লাঠিচার্জ করে ওই সিভিক পুলিশ। এরকমই পুলিশের দাপিয়ে বেড়ানোর চিত্র সারাদিন ধরে দেখা গেছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে। রীতিমত সরকারি আইন অমান্য করে পুলিশি অত্যাচারের এই ছবি দেখে ছিছিক্কার করছেন মানুষ।
এমতাবস্থায় গতকাল সাংবাদিক সম্মেলনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় জানান যে, একাধিক জায়গায় প্রশাসনের বিরুদ্ধে অত্যাবশ্যকীয় পন্য সরবরাহে বাধাদান করার অভিযোগ এসেছে। তাই কড়া সুরে তিনি বলেন যে, এরপর যদি এরকম অভিযোগ আসে তবে প্রশাসনের সেই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হবে। হয়তো মুখ্যমন্ত্রীর এই কড়া মনোভাবের পরেই কিছুটা নমনীয় দেখিয়েছে আজ পুলিশ প্রশাসনকে।





