তাঁকে নিয়ে আগেও বহুবার বিতর্ক হয়েছে। এখনও সেই বিতর্ক অব্যাহত। রাষ্ট্রসংঘের ভুয়ো শংসাপত্রে তাঁর নাম জড়িয়েছে। আবার মেডিক্যাল কলেজ থেকে জীবনদায়ী ইঞ্জেকশন চুরি কাণ্ডে তাঁর নাম জড়িয়েছে। কিন্তু এত বিতর্ক থাকতেও শেষ পর্যন্ত মেডিক্যাল কাউন্সিলের সভাপতি নির্বাচিত হলেন সেই তৃণমূলের বিধায়ক নির্মল মাজিই।
নির্মল মাজির নাম সভাপতি হিসেবে ময় মনোনীত করার পর এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছে ওয়েস্ট বেঙ্গল ডক্টর্স ফোরাম। তাদের দাবী, তৃণমূলের উচিত ছিল নির্মল মাজিকে বহিষ্কার করা। কিন্তু উল্টে তাঁকে আবার সভাপতির পদে বসানো হল।
স্বাস্থ্য দফতরের তরফে একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে নির্মল মাজিকে মেডিক্যাল কাউন্সিলের সভাপতি হিসেবে বেছে নেওয়া হয়। শুধু ভুয়ো শংসাপত্র বা ইঞ্জেকশন চুরিই নয়, টসিলিজুমাব কাণ্ডেও নির্মল মাজিকে নিয়ে শুরু হয় নানান বিতর্ক। এরপরও তাঁকে সভাপতির পদে বসানো হল, কোনও বাধা এল না, এই নিয়ে তুমুল শোরগোল পড়েছে।
আরও পড়ুন- পদত্যাগ করলেন সোমেন-পুত্র রোহন, ‘আপনার চামচারাই আপনার অধঃপতনের কারণ’, তীব্র কটাক্ষ অধীরকে
সূত্রের খবর অনুযায়ী, একুশের নির্বাচনের আগে মেডিক্যাল কাউন্সিলের সভাপতি পদ থেকে ইস্তফা দেন নির্মল মাজি। সেই সময় একটি প্যানেল তৈরি করা হয়। এই প্যানেলে ছিলেন ডঃ অসীম রায়, ডঃ প্রদীপ ভিমানী ও ডঃ শান্তনু সেনের মতো চিকিৎসকরা। কিন্তু পরে হঠাৎই সেই প্যানেল বাতিল হয়ে যায়। কী কারণে ঠিক এই প্যানেল বাতিল করা হল, তা কারোর অবশ্য জানা নেই। এরপরই ডঃ নির্মল মাজি-সহ আরও দুই চিকিৎসকের নাম পাঠানো হয়ে প্যানেলের সদস্য হিসেবে। এই থেকেই শুরু হয় বিতর্ক।
তবে নির্মল মাজি এই বিষয়ে কারও সঙ্গে কোনও কথা বলতে রাজী নন বলেই খবর। এদিকে, চিকিৎসক সংগঠনের একাংশের মতে, ২০১৮ সালে মেডিক্যাল কাউন্সিলের যে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় নির্মল মাজি সভাপতি নির্বাচিত হন, তা সঠিক আইন মেনে হয়নি। এই নিয়ে আদালতে মামলাও হয়। সেখানে নতুন প্যানেলে নির্মল মাজির নাম প্রস্তাবিত হওয়ায় বিতর্কের সূত্রপাত। আবারও এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতেরদ্বারস্থ হওয়া হতে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে।





