ফের নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে মাওবাদীরা(Maoists)। সাম্প্রতিক তথ্য বলছে দীর্ঘ ৯ বছর পর জঙ্গলমহলে সক্রিয় হচ্ছে মাওবাদী সংগঠন। এর এবার সেই জঙ্গলমহলেই মানুষ মারার উদ্দেশ্যে ছুটল গুলি। লেভি বাবদ মাওবাদীদের দাবি মেনে মোটা টাকা না মেটানোর জন্য বেলপাহাড়ির(Belphahari) পচাপানি গ্রামের বাসিন্দা বিদ্যুৎ দাসকে(Vidyut Das)লক্ষ্য করে গুলি চালায় কিছু অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি।
জীবন রক্ষার তাগিদে ছাদ থেকে ঝাঁপ মারেন বিদ্যুৎবাবু। মাটিতে পড়ে পা ভেঙেছে তাঁর। তবে প্রাণে বেঁচে গেছেন তিনি। আর এই পুরো ঘটনার পিছনে মাওবাদীদের হাত রয়েছে বলে মনে করছে পুলিশ।
কুখ্যাত মাও নেতা কিষানজীর(Kishenji) মৃত্যুর পর দীর্ঘ নয় বছর বাংলার মাটিতে প্রায় মুছে গিয়েছিল মাওবাদী অস্তিত্ব। কিন্তু কিছুদিন আগেই গোয়েন্দারা খবর পেয়েছিলেন, ফের বাংলায় সংগঠন তৈরী করার চেষ্টা করছে লাল গেরিলারা। এমনকি স্বাধীনতা দিবসের দিন জঙ্গলমহলের বেশ কয়েকটি গ্রামে কালো পতাকা লাগিয়ে দেয় ওই মাওবাদী সংগঠনটি। তার ওপর নতুন করে এই গুলির হামলা চিন্তা বাড়াচ্ছে পুলিশের।
সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার রাত ন’টা নাগাদ এক অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তি বাড়ির সামনে এসে তাকে ডাকাডাকি করতে শুরু করেন। বিদ্যুৎ দাসের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাসের এজেন্সি রয়েছে। এই ডাক শুনে বিদ্যুৎবাবু নিচে নেমে এলে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়া হয়। এরপর প্রাণে বাঁচতে ছাদ থেকে লাফ দেন তিনি। মাটিতে পড়ে পা ভেঙ্গে যায় তাঁর। গুলির শব্দ শুনতে পান এলাকার মানুষ। কিন্তু ভয়ে বাড়ির বাইরে বের হননি প্রায় কেউই।
জানা গিয়েছে, ২৭শে জুলাই এই ব্যক্তির বাড়িতে মাওবাদী নেতা মদন মাহাতোর সই করা একটি চিঠি দিয়ে চাঁদা বাবদ দু লক্ষ টাকার দাবি করা হয়। টাকা মেটানোর জন্য ২৯ জুলাই পর্যন্ত সময় দেওয়া হয় তাঁকে। কিন্তু সেই টাকা না দেওয়ায় এই হামলা চালানো হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাইনি পুলিশ। তবে মাওবাদী সংগঠনের এহেন সক্রিয়তা চিন্তা বাড়াচ্ছে গোয়েন্দাদের।






