সামনেই লোকসভা নির্বাচন। সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যেই এই মুহূর্তে প্রস্তুতি তুঙ্গে। সভা, মিছিল, প্রার্থী বাছাই সবই চলছে জোরকদমে। কে কোথায় প্রার্থী হবেন, কার কোন এলাকা থেকে জেতার সম্ভাবনা সবথেকে বেশি, তাই নিয়েই এই মুহূর্তে কাটাছেঁড়া চলছে দলের অন্দরে।
ঘাটালে তৃণমূলের প্রার্থী দেবই
কিছুদিন আগেই এক সাক্ষাৎকারে লোকসভা নির্বাচনের প্রার্থী হওয়া নিয়ে কিছু মন্তব্য করেছিলেন দেব। যাতে মনে হয়েছিল, তিনি হয় এই নির্বাচনে প্রার্থী হবেন না। তবে সম্প্রতি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির বৈঠকে দেখা যায় দেবকে। আর সেখানেই দলনেত্রী কার্যত স্পষ্ট করে দেন যে লোকসভা নির্বাচনে ঘাটাল থেকে দেবই লড়বেন।
অন্যদিকে, লোকসভা নির্বাচনকে পাখির চোখ করেছে গেরুয়া শিবির। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাংলায় এসে বলে গিয়েছেন যে বাংলা থেকে ৩৫টি আসন পাবেন বিজেপি। ফলে প্রার্থী বাছাইও চলছে সেভাবেই। জানা গিয়েছে, রাজ্যের ৭৭ জন বিজেপি বিধায়কের মধ্যে ২০ জনের একটি তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে যাদের লোকসভা নির্বাচনে টিকিট দিতে পারে বিজেপি।
জানা গিয়েছে, এই সমস্ত এলাকায় ঘুরে সমীক্ষা করে বিজেপির তরফে দেখা হয়েছে ওই এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে নেতাদের সম্পর্ক কেমন। সেই অনুযায়ীই টিকিট দেওয়া হবে প্রার্থীদের। এসবের মধ্যেই শোনা যাচ্ছে, ঘাটালে দেবের বিরুদ্ধে কোনও এক হেভিওয়েট নেতাকেই প্রার্থী করতে চলেছে বিজেপি।
কে সেই নেতা?
ঘাটাল তৃণমূলের বেশ শক্ত ঘাঁটি। ফলে সেখান থেকে দেবকে সরাতে গেলে বেশ প্রভাবশালী কাউকেই প্রার্থী করা প্রয়োজন। বিজেপি সূত্রে খবর, ঘাটাল থেকে দেবের বিরুদ্ধে ভোটে দাঁড়াতে পারেন খড়গপুরের বিজেপি বিধায়ক হিরণ চট্টোপাধ্যায়। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে প্রভাবশালী তৃণমূল নেতাকে হারিয়ে বিধায়ক হয়েছেন হিরণ। ফলে তাঁকেই ঘাটালে প্রার্থী করার কথা ভাবছে পদ্ম শিবির।

দেব বনাম হিরণ দ্বৈরথ
দেবের সঙ্গে যে হিরণের সম্পর্ক একেবারেই ভালো না, তা সকলেরই কমবেশি জানা। দেবকে যখন গরু পাচার কাণ্ডে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য ইডি তলব করে, সেই সময় তাঁকে কটাক্ষ করেছিলেন হিরণ। তাঁকে এই কাণ্ডে যুক্ত হলেও অভিহিত করেছিলেন তিনি। শুধু তাই-ই নয়, দেবের বান্ধবীকে নিয়েও ব্যক্তিগত পরিসরে তাঁকে আক্রমণ করেছিলেন হিরণ। পাল্টা জবাবও দিয়েছিলেন দেবও। ফলে এই দুই নেতা যদি সামনাসামনি লড়েন, তাহলে যে টক্কর বেশ ভালমতোই হবে, তা বেশ স্পষ্ট। তবে ঘাটালে দেবের প্রভাব অনেকটাই, ফলত তাঁকে হারাতে বেশ খানিকটা কসরত করতেই হবে হিরণকে।





