একটা সময় বঙ্গ রাজনীতির মানচিত্রে শুধুমাত্র একটা দলেরই অস্তিত্ব ছিল আর তা হল বামফ্রন্ট সরকার। সেই অর্থে বাংলায় অন্য কোনও শাসক দলই রাজত্ব করেনি। দেশে কংগ্রেসের শাসন থাকলেও বঙ্গ রাজনীতিতে একচেটিয়া দখল ছিল বামেদের। তবে সেই সূর্য অস্ত গেছে।
বঙ্গকন্যা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস ফিনিক্স পাখির মতো উদয় হয়। আর হারিয়ে দেয় চৌত্রিশ বছরের বাম শাসনকে। তবে অদ্ভুতভাবেই বামফ্রন্ট সরকারের পতনের সঙ্গে সঙ্গেই এই বিরাট দলটি কার্যত ধুলোকণায় পরিণত হয়। বঙ্গ রাজনীতিতে যে বিজেপির ন্যূনতম অস্তিত্ব ছিলনা সেই দলটি বাংলার দ্বিতীয় প্রধান রাজনৈতিক দল হিসেবে উঠে আসে।
যদিও প্রাথমিক পর্যায় বিজেপির অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। কিন্তু ২০১৭ সালে তৃণমূল থেকে দূরত্ব বাড়িয়ে বিজেপিতে চলে যান তৃণমূলের অন্যতম স্তম্ভ মুকুল রায়। বঙ্গ রাজনীতিতে মুকুল রায়কে চাণক্য বলা হয়ে থাকে। কারণ তার রাজনৈতিক বুদ্ধি তুখোড়। আর যে বঙ্গ বিজেপি ২০১৪ লোকসভায় বাংলা থেকে মাত্র দুটো আসন জিতে ছিল তারাই ২০১৯ এ ১৮ আসন জিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনে ভয়ের সঞ্চার করেছিল।
কিন্তু ২০২১ বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী মুকুল রায় ফের ফিরে আসেন তৃণমূল কংগ্রেসে। পরবর্তীতে স্ত্রীর মৃত্যু এবং নিজের শারীরিক অসুস্থতার কারণে এখন কার্যত রাজনীতি থেকে বেশ অনেকটাই দূরে মুকুল রায়। এমনকি পরবর্তীতে বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করার উদ্দেশ্যে তিনি দিল্লি গেলেও বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব তার সঙ্গে দেখা করেনি। মুকুল রায় বাংলায় বিজেপির সংগঠনকে শক্তিশালী করেছিলেন এই কথা, একবাক্যে স্বীকার করতেই হবে। তার উপস্থিতিতে অক্সিজেন পেয়েছিল বঙ্গ বিজেপি। তবে কি মুকুল বিদায়েই মুখ থুবড়ে পড়লো বিজেপি শিবির?





