তৃণমূলে যোগ দিচ্ছেন বিজেপি নেতা জয়প্রকাশ? মুখ খুললেন নিজেই

কিছুদিন আগেই তাঁকে দলের তরফে শো-কজ করা হয়। কিন্তু সেই কারণ দর্শানোর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দল থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয় তাঁকে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি বিজেপি শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির নিয়ম লঙ্ঘন করেছেন। বরখাস্ত হওয়ার পর একাধিকবার সংবাদমাধ্যমে মুখ খুলেছেন জয়প্রকাশ মজুমদার।

তাঁর বরখাস্ত হওয়া ও দলবিরোধী মন্তব্যের জন্য অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, তবে কী জয়প্রকাশ এবার দল ছেড়ে দেবেন? তিনি কী এবার তবে তৃণমূলে যোগ দেবেন? এবার এই নিয়ে মুখ খুললেন তিনি।

সম্প্রতি, এক সাক্ষাৎকারে জয়প্রকাশকে এমন প্রশ্নই করা হয়। জবাবে কী বললেন তিনি?

এদিনের এই সাক্ষাৎকারে জয়প্রকাশ প্রথমেই জানান যে যে শৃঙ্খলারক্ষা কমিটির দোহাই দিয়ে তাঁকে শো-কজ বা বরখাস্ত করা হয়েছে, সেই শৃঙ্খলারক্ষা কমিটি রাজ্য বিজেপিতে তৈরিই হয়নি। জয়প্রকাশের সাফ কথা পুরনো বিজেপি কর্মী যারা দলীর জন্য বহুদিন ধরে পরিশ্রম করছেন, তাদের জন্য তাঁকে প্রতিবাদ চালিয়ে যেতে হবে।

জয়প্রকাশের কথায়, বর্তমান রাজ্য বিজেপি নেতৃত্ব চায় দলের পুরনো নেতা-কর্মীদের সরিয়ে তাদের নিজেদের পছন্দের মানুষকে সেই জায়গায় বসাতে। এমনকি, তিনি এও বলেন রাজ্য বিজেপি দিলীপ ঘোষের উপরেও অবিচার করেছে। তাঁর প্রাপ্য সম্মান তাঁকে দেওয়া হয়নি।
তাহলে বিজেপির পুরনো নেতৃবৃন্দ সৌমিত্র খাঁ, লকেট চট্টোপাধ্যায়, রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়, যারা বিজেপির জন্য রাস্তায় নেমে বারবার আন্দোলন করেছেন, প্রচার করেছেন, তারাই বা আজ কোথায়? জয়প্রকাশের কথায়, তাদের সবাইকে অকেজ করে রাখা হয়েছে। রাজ্য বিজেপি তাদের চুপ করিয়ে রেখেছে।

তাহলে এত কিছুর পর তিনি কী তৃণমূলে যোগ দিচ্ছে? এর জবাবে জয়প্রকাশ বলেন, “এখনও পর্যন্ত সেরকম কোনও ভাবনাচিন্তা আসেনি। সেরকম পরিস্থিতি বা পরিসর এখনও আসেনি। এখন বিজেপি কর্মীদের জন্যই কাজ করতে চাই। ভবিষ্যতে কী হবে তা এখনই বলা যাচ্ছে না”।
এখানেই শেষ নয়, এদিন তৃণমূল সম্পর্কে কথা বলতে গিয়ে জয়প্রকাশ বলেন যে দল রাজ্যে তৃতীয়বার ক্ষমতায় এসেছে, বলা যেতে অন্তত ১৫ বছর রাজ্য চালাবে যারা, তারা যে রাজনৈতিক ভাবে বেশ গুরুত্বপূর্ণ, তা বলতে তো কোনও দ্বিধা নেই।

নিজের এমন মন্তব্যের মধ্যে দিয়ে জয়প্রকাশ কী তাহলে মৃদু আভাস দিয়ে রাখলেন যে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা তারত রয়েছে? তিনিও পরবর্তীকালে দলবদল করতেই পারেন, সেরকম ইঙ্গিতই মিলল তাঁর কথায়। তবে আগামীদিনে কী হতে চলেছে তা তো সময়ই বলবে। তবে বর্তমানে জয়প্রকাশের কথায়, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের লোকজন তাঁর চেনাজানা বা বন্ধু স্থানীয় হলেও, কারোর থেকে এখনই অন্য দলে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব তিনি পান নি।

RELATED Articles