ঋণ শোধ করার মতো হাতে টাকা নেই। কিন্তু টাকা দেওয়ার জন্য চাপ বেড়েই চলেছে। সেই কারণে এবার নিজের কিডনি বিক্রি করতে চেয়ে জেলাশাসককে চিঠি দুয়ে আবেদন জানালেন মহিলা। এই ঘটনায় তুমুল শোরগোল পড়েছে এলাকায়। বছর খানেক আগে নেওয়া ৫০ হাজার টাকার ঋণ শোধ করার আর বিকল্প কোনও পথ পাচ্ছেন না তিনি। ঘটনাটি ঘটেছে বারাসাতের দেগঙ্গা এলাকায়।
কী ঘটেছে গোটা ঘটনাটি?
জানা গিয়েছে, ওই মহিলার নাম মৌমিতা সাহা। তিনি একজন মানবাধিকার কর্মী। ২৫ বছর আগে ওই মহিলার বাবা, মায়ের মৃত্যু হয়। বর্ধমানে বিয়ে হয়েছিল তাঁর। কিন্তু সেই সংসার টেকেনি। স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয় মৌমিতার। বছর চারেক আগে উত্তর ২৪ পরগনা জেলার দেগঙ্গায় আসেন তিনি। এখানেই এক ভাড়া বাড়িতে গত চার বছর ধরে রয়েছেন এই মহিলা।
জানা গিয়েছে, বছরখানেক আগে মৌমিতা এক ব্যক্তির থেকে ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। তবে নির্দিষ্ট সময় সেই ঋণ শোধ করতে পারেন নি তিনি। সেই কারণে ক্রমাগত চাপ দেওয়া হতে থাকে তাঁকে। এমনকি, টাকা শোধ করার জন্য হুমকির মুখেও পড়তে হয়েছে মৌমিতাকে, এমনটাও জানান তিনি।
সেই কারণে এবার ঋণ শোধ করতে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েছেন ওই মহিলা। যে কোনও প্রকারে টাকা শোধ করতেই হবে। সেই কারণে স্থির করেন যে নিজের কিডনি বিক্রি করবেন তিনি। এই জন্য বেশ কিছু নার্সিং হোমে যোগাযোগও করেছিলেন। কিন্তু অনুমতি মেলেনি। সেই কারণে এবার কিডনি বিক্রির অনুমতি চেয়ে জেলাশাসককে আবেদন জানান মৌমিতা।
কী জানালেন ওই মহিলা?
মৌমিতার কথায়, “বসিরহাটের এক ব্যক্তির থেকে ৫০ হাজার টাকা ধার নিয়েছিলাম। পাওনাদার খুব চাপ দিচ্ছে। টাকা জোগাড় করতে না পারলে আত্মহত্যা ছাড়া আর কোনও উপায় নেই। তাই বাধ্য হয়ে ঋণের টাকা পরিশোধ করতে একটি কিডনি বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর আগে বিভিন্ন নার্সিংহোমে গিয়েছিলাম কিডনি বিক্রির জন্য। কিন্তু কোথাও অনুমতি দেয়নি। তাই জেলাশাসকের কাছে অনুমতি চেয়ে লিখিত দিয়েছি”।





